সকালে ঘুম থেকে উঠেই যে ৪ অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত

লাইফস্টাইল ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৭ সেপ্টেম্বর): দিনের শুরুটা কীভাবে হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে পুরো সময়ের কর্মদক্ষতা, শক্তি এবং মানসিক প্রশান্তি। আত্মযত্নের সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো একটি গোছানো ও স্বাস্থ্যকর সকালের রুটিন গড়ে তোলা। কিন্তু অনেক সময় অনিচ্ছাকৃত কিছু বদভ্যাসের কারণে আমরা অজান্তেই শরীর ও মনের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করে ফেলি। দৈনন্দিন ব্যস্ততার মাঝে সঠিক রুটিন বজায় রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়ানোয় অনেকেই ভুল কিছু অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন।

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘হাফিংটন পোস্ট’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সকালে অজান্তেই করা কিছু সাধারণ ভুল কাজ আমাদের পুরো দিনটিকে ক্লান্তিকর ও আনন্দহীন করে তুলতে পারে। জীবনধারায় সামান্য কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এনে কীভাবে আরও প্রাণবন্ত সকাল উপহার পাওয়া যায়, চলুন জেনে নেওয়া যাক সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যে ৪টি বদভ্যাস অবিলম্বে বর্জন করা উচিত:

১. স্নুজ বাটন বারবার চাপা

বারবার অ্যালার্মের ‘স্নুজ’ বাটন টেপার প্রবণতা ঘুম ভাঙার পর অ্যালার্ম বন্ধ করে ‘আর মাত্র ৫ মিনিট ঘুমাই’—এমন মানসিকতা অনেকের মাঝেই দেখা যায়। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, স্নুজ করার পর এই সামান্য সময়ে পাওয়া ঘুম শরীরের জন্য কখনোই স্বস্তিদায়ক বা উপকারী নয়। বরং এটি আমাদের সকালের পূর্ণ ঘুম চক্রে বাধা সৃষ্টি করে, যা মানসিক ক্লান্তি এবং দীর্ঘমেয়াদে বিপাকজনিত জটিলতা বাড়াতে পারে। এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ নিকেত সোনপাল পরামর্শ দেন, অ্যালার্মের সময়সীমা ১৫ মিনিট পিছিয়ে দিয়ে তা বাজার মাত্রই এক লাফে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ার অভ্যাস করা উচিত।

২. দিন শুরু করা ফোনের স্ক্রিন দেখে

ঘুম থেকে জেগে মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রাখা চোখ খোলার সঙ্গে সঙ্গেই মুঠোফোন হাতে তুলে সোশ্যাল মিডিয়া ফিড কিংবা ইমেইল চেক করার অভ্যাসটি অত্যন্ত ক্ষতিকর। চিকিৎসক নাওমি প্যারেলা উল্লেখ করেন, ঘুম থেকে উঠেই বাহ্যিক দুনিয়ার খবর বা কাজের বার্তা দেখার অর্থ হলো আপনি নিজের মনের নিয়ন্ত্রণ স্বেচ্ছায় অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছেন। এর ফলস্বরূপ দিনের শুরুতেই অযাচিত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা ভর করে। তাই ফোনের স্ক্রিনে সময় না কাটিয়ে সকালটা শুরু করুন গভীর শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে, হালকা কিছু শরীরচর্চা বা এক গ্লাস বিশুদ্ধ পানি খেয়ে।

৩. সকালের নাস্তায় অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার

সকালের খাবারে অতিরিক্ত মিষ্টি বা চিনিযুক্ত পদ রাখা সকালের নাশতায় মিষ্টিজাতীয় খাবার, অতিরিক্ত চিনি মেশানো কফি কিংবা প্রক্রিয়াজাত সিরিয়াল খাওয়ার অভ্যাস শরীরে হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য বিঘ্নিত করে। এগুলো সাময়িকভাবে চটজলদি শক্তি জোগালেও খুব দ্রুত রক্তের শর্করার মাত্রা কমিয়ে দেয়, যার ফলে মেজাজ খিটখিটে হওয়া কিংবা ঘন ঘন ক্ষুধা লাগার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালের খাবারে মিষ্টি বা চিনি যথাসম্ভব পরিহার করা শ্রেয়। তবে একান্তই যদি চিনিযুক্ত কিছু খাওয়া হয়, তবে তার পরপরই সামান্য হাঁটাহাঁটি বা শারীরিক কসরত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

৪. সঠিক পদ্ধতিতে মুখ পরিষ্কার না করা ও সানস্ক্রিন এড়িয়ে যাওয়া

মুখ ঠিকমতো পরিষ্কার না করা এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার না করা অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে যে রাতে ঘুমানোর আগে মুখ ধোয়ার কারণে সকালে উঠে আর মুখ পরিষ্কার করার প্রয়োজন পড়ে না। অথচ রাতেরবেলা বিছানার চাদর বা বালিশের সংস্পর্শে থেকে ত্বকে ময়লা ও ধুলোবালি জমতে পারে। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া ভীষণ জরুরি। পাশাপাশি, বাইরে রোদে যান বা ঘরে থাকুন না কেন, ত্বকের সুস্থতা ও সুরক্ষায় পর্যাপ্ত সানস্ক্রিন (SPF) ব্যবহার করা উচিত। এমনকি মুখের পাশাপাশি ঘাড় ও বুকের অংশেও এটি ব্যবহারের অভ্যাস করতে হবে।

সকালের এই ছোট ছোট ভুলগুলো শুধরে নিয়ে জীবনধারায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই জীবনকে আরও সুশৃঙ্খল, সতেজ এবং কর্মক্ষম করে তোলা সম্ভব।

তথ্যসূত্র: হাফিংটন পোস্ট

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ