বন্ধ শিল্প চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার স্কিম, ঋণে সুদ ৭%

নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৭ সেপ্টেম্বর): দেশের বন্ধ থাকা শিল্পকারখানা ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার সচল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রাক-অর্থায়ন স্কিম চালু করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য থাকছে ছয় মাসের একটি গ্রেস পিরিয়ড, ফলে ঋণ নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাস কোনো ধরনের সুদ পরিশোধ করতে হবে না।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক সার্কুলার প্রকাশ করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’-এর মূল লক্ষ্য হলো ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে অর্থায়ন নিশ্চিত করে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাণ ফিরিয়ে আনা। এই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রাক-অর্থায়ন বা ফান্ড প্রদান করবে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, স্কিমের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো যে প্রাক-অর্থায়ন সংগ্রহ করবে, তার সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ শতাংশ। তবে ঋণ নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাস ব্যাংকগুলোকেও কোনো সুদ দিতে হবে না। এই ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সুদ পরিশোধ শুরু করতে হবে এবং এ সময় প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের জমে থাকা বকেয়া সুদও পরিশোধ করতে হবে।

অন্যদিকে, এই স্কিমের আওতায় সাধারণ গ্রাহক বা উদ্যোক্তাদের যে ঋণ দেওয়া হবে, তার সুদহার হবে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ। গ্রাহকদের সুবিধার জন্যও ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড রাখা হয়েছে; অর্থাৎ ঋণ বিতরণের পর প্রথম ছয় মাস গ্রাহকের থেকে কোনো সুদ নেওয়া যাবে না। ছয় মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর থেকে সুদ আদায় কার্যক্রম শুরু হবে এবং প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদও তখন আদায়ের আওতায় আসবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, তহবিলের পর্যাপ্ততা সাপেক্ষে এই স্কিমের পুরো মেয়াদের তিন বছরের মধ্যে যেকোনো সময়ে প্রাক-অর্থায়নের জন্য আবেদন করা যাবে। অর্থাৎ, এই বিশেষ সুবিধা নিতে ইচ্ছুক ব্যাংকগুলো ফান্ড থাকা সাপেক্ষে তিন বছরের যেকোনো সময়ই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করার সুযোগ পাবে।

স্কিমের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, নিয়মিত ঋণ আদায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সার্বিক তদারকির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নীতিমালা স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ব্যাংকগুলোকে প্রাক-অর্থায়নের অর্থ কেবল নির্দিষ্ট খাতেই ব্যয় করা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ঋণের যথাযথ ব্যবহার ও আদায় পরিস্থিতি নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে। গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর ব্যাংকগুলোকে প্রচলিত নিয়ম মেনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে সুদের হিসাব চূড়ান্ত করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এই জরুরি নির্দেশনাটি জারি করা হয়েছে। জারির সাথেই সাথেই এই নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ