উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন, জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন: ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৭ সেপ্টেম্বর): জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আসন্ন সব উপনির্বাচনেও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। পাশাপাশি, জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির চেয়েও আরও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার।

তিনি জানান, উপনির্বাচনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বাহিনীগুলোও অত্যন্ত সক্রিয় দায়িত্ব পালন করবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান কমিশনার। তিনি উল্লেখ করেন, বৈঠকে অংশ নেওয়া সব পক্ষই একমত পোষণ করেছেন যে, আগামী বছরের জুন মাসের আগেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন এই কমিশনার। সাম্প্রতিক বন্যায় দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাখাতে যে ক্ষতি হয়েছে, তার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সেই ধকল কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ফলে পরীক্ষা কার্যক্রম যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কমিশনকে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে।

নির্বাচনী কার্যক্রমে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সম্পৃক্ততার কথা স্মরণ করে কমিশনার জানান, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সমন্বয় ও নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য সাধারণত একজন শিক্ষককে অন্তত এক সপ্তাহ সময় দিতে হয়। এর পাশাপাশি শিক্ষকদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন বা পরীক্ষার অন্যান্য পূর্বপ্রস্তুতি যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, কমিশন সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। সংশ্লিষ্টদের এসব উদ্বেগকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক মনে করে যথাযথ সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, বাজেট পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রাথমিক কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। সাচিবিক ও স্টাফ লেভেলের প্রয়োজনীয় সমন্বয় কাজ শেষ হওয়ার পর কমিশন বৈঠকে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। ইউপি নির্বাচন ঠিক কবে থেকে শুরু হবে, তার সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনই ঘোষণা না করা হলেও, আগামী ৬ জুনের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময়সীমা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে কমিশন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়েই বেশি কাজ করছে, তবে আইন অনুযায়ী অন্যান্য স্থানীয় নির্বাচনগুলোর সময় ঘনিয়ে এলে সেগুলোও যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে নানা জটিলতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, পুরো নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসজুড়েই বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা চলমান থাকায় উপযুক্ত সময় বের করা অত্যন্ত কঠিন। জানুয়ারি মাসে কিছু ফাঁকা সময় পাওয়া গেলেও আগামী ৭ বা ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রোজা শুরু হচ্ছে। এরপর রোজার ছুটির পরপরই রয়েছে এসএসসি পরীক্ষা। আবার এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়া এবং আগামী ৬ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর মধ্যবর্তী সময়টিতে সামান্য সুযোগ রয়েছে। এমন একটি অত্যন্ত আঁটসাঁট বা টাইট শিডিউলের মাঝে কীভাবে সব কার্যক্রম নিখুঁতভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে কমিশন অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

পূর্বের প্রাক-প্রস্তুতি পরিকল্পনা থেকে কমিশন সরে আসছে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তা সরাসরি নাকচ করে দেন নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এর আগে যা বলা হয়েছিল তা ছিল কেবল একটি প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভার ভিত্তিতে তৈরি করা সাময়িক বা টেন্টেটিভ পরিকল্পনা। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ১৭ তারিখের সমন্বয় সভার পর সমস্ত উপাত্ত ও তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। সুতরাং, পূর্বের অবস্থান থেকে কমিশন একচুলও সরে আসেনি বলে দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন তিনি। প্রাপ্ত সব উপাত্ত নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করার পর কমিশন বৈঠকের মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ