জ্বালানি তেলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী, এক মাসেই দর বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৩১ জুলাই) : আন্তর্জাতিক বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেলেও, সামগ্রিক বিচারে চলতি মাসে জ্বালানি তেলের বাজারে এক রেকর্ড ভাঙা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
সাপ্তাহিক ও মাসিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের প্রধান দুই বেঞ্চমার্কের তেলের দরই বড় ধরনের উল্লম্ফনের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে, গত এক মাসের ব্যবধানে ব্রেন্ট ক্রুড এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডাব্লিউটিআই)—উভয় তেলের দামই প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সামান্য কমে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড ৮৭ দশমিক ৬৭ ডলারে এবং ডাব্লিউটিআই প্রতি ব্যারেল ৮২ দশমিক ০৭ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মধ্যেই কৌশলগত হরমুজ প্রণালী দিয়ে পূর্বের তুলনায় বেশি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের খবর পাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে এই সাময়িক পতন লক্ষ্য করা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের অভিমত, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অবসান ঘটলে বিশ্ববাজারে অতিদ্রুত বিপুল পরিমাণ তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। এই আশঙ্কার কারণেই তেলের দাম অস্বাভাবিক মাত্রায় ওপরে উঠতে পারছে না।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যে পরিমাণ জাহাজ চলাচল করত, বর্তমান ট্র্যাফিক তার চেয়ে এখনো বেশ পিছিয়ে রয়েছে। তবে এই যাতায়াত ব্যবস্থায় সামান্যতম ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস মিললেই তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রভাব পড়ছে জ্বালানি তেলের ফিউচার প্রাইসে।
এদিকে কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্যমতে, বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবহার করতে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভে মজুদের পরিমাণ প্রায় তলানিতে ঠেকেছে। এর ফলে অচিরেই তাদের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ বন্ধ করা হতে পারে, যা ভবিষ্যতে তেলের বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবে সৌদি আরব একটি নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই উদ্যোগের ফলে লোহিত সাগর ও তৎসংলগ্ন সামুদ্রিক এলাকায় বাণিজ্যিক ট্যাংকারগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সূত্র: অয়েলপ্রাইসডটকম
মনোয়ারুল হক/
