প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন প্রকল্প, ৫৩৯ তালিকা যাচাইয়ের নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৫ জুলাই) : দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে এক নতুন মেগা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।
এই নতুন প্রকল্পের আওতায় দেশজুড়ে মোট ৫৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোর আধুনিকায়ন করা হবে। তবে প্রকল্পের কাজ চূড়ান্ত করার আগে নির্বাচিত এই বিদ্যালয়গুলোর তালিকার নির্ভুলতা ও সঠিকতা যাচাই করে দ্রুত প্রত্যয়নপত্র পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ থেকে সম্প্রতি জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানা গেছে। ‘বিদ্যমান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১১টি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক একটি নতুন প্রকল্পের অধীনেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হবে।
সূত্রমতে, এই মহাপরিকল্পনার আওতায় দেশের ৬৪টি জেলা থেকে ৪৮৮টি বিদ্যমান মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে বেছে নেওয়া হয়েছে, যার তথ্য নেওয়া হয়েছে সমন্বিত প্রাথমিক শিক্ষা ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (IPEMIS) থেকে। এর পাশাপাশি, ১১টি সিটি কর্পোরেশন এলাকা থেকে আরও ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ডিপিই-এর অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করার আগে নির্বাচিত বিদ্যালয়গুলোর যাবতীয় তথ্য শতভাগ নির্ভুল ও হালনাগাদ থাকা আবশ্যক। আর এ কারণেই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের (ডিপিইও) নিজ নিজ এলাকার বিদ্যালয়গুলোর তথ্য সরজমিনে যাচাই-বাছাই করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত ছক মোতাবেক তথ্য যাচাই শেষে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষরসহ প্রত্যয়নপত্রটি আগামী ৫ জুলাই ২০২৬ তারিখের মধ্যে অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগে জমা দেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার সুবিধার্থে নির্দেশনার সাথে ১১টি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত স্কুলের তালিকা এবং প্রত্যয়নপত্রের একটি নমুনাও যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মিরাজুল ইসলাম উকিল (এনডিসি) স্বাক্ষরিত এই জরুরি নির্দেশনাটি ইতোমধ্যে দেশের সব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হলে নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নতুন ভবন নির্মাণ, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ তৈরি, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, নিরাপদ সুপেয় পানির নিশ্চয়তা ও বিদ্যুৎ সুবিধাসহ নানাবিধ শিক্ষা-সহায়ক পরিবেশের এক বৈপ্লবিক উন্নয়ন ঘটবে। ফলশ্রুতিতে, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আরও নিরাপদ, আধুনিক ও বৈশ্বিক মানসম্পন্ন পরিবেশে পড়ালেখার সুযোগ পাবে।
মনোয়ারুল হক/
