খামেনির জানাজায় ইরানিদের কান্না দেখে বিস্মিত ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (৫ জুলাই) : ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যানুষ্ঠানে লাখ লাখ মানুষের নজিরবিহীন উপস্থিতি এবং শোকার্ত জনতার বাঁধভাঙা কান্না দেখে তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তেহরানের রাজপথে ইরানিদের এই আবেগের বিস্ফোরণ ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ ও কৌশলকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এক চরম যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণেই মূলত আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানটি বেশ কিছুদিন পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয় ইরান সরকার। তবে সব বাধা পেরিয়ে অবশেষে তেহরানে যখন এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, তখন সেখানে দেখা যায় শোকার্ত মানুষের এক বিশাল সমুদ্র। লাখ লাখ ইরানি নাগরিকের এই উপস্থিতি এবং তাদের তীব্র ক্ষোভ ও কান্নার দৃশ্য বিশ্ব গণমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন প্রশাসনের দাবি ছিল, ইরানের সাধারণ জনগণ তাদের ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর চরমভাবে অসন্তুষ্ট এবং তারা এর পরিবর্তন চায়। কিন্তু খামেনির জানাজার এই বিশাল জনস্রোত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেই ধারণাকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে।
ঐতিহাসিক এই শোকযাত্রার ভিডিও ফুটেজ দেখার পর নিজের বিস্ময় চেপে রাখতে পারেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি দেখলাম সেখানে লাখ লাখ মানুষ কাঁদছে। তারা যেভাবে শোক প্রকাশ করছে, তা সত্যিই নজিরবিহীন এবং আমার জন্য ভীষণ বিস্ময়কর। আমরা ভেবেছিলাম ইরানের মানুষ এই শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি চায়, কিন্তু রাজপথের এই চিত্র সম্পূর্ণ অন্য বাস্তবতার কথা বলছে।”
অবশ্য শোকার্ত জনতার এই ঢল দেখে বিস্মিত হলেও নিজের আক্রমণাত্মক অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর তীব্র ও ধারাবাহিক অভিযানের ফলেই ইরান আজ এই কোণঠাসা অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা।
মনোয়ারুল হক/
