তীব্র গরমে বিপর্যস্ত ফ্রান্স, ৬৮ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (২৪ জুন) : ইউরোপজুড়ে বয়ে চলা নজিরবিহীন তাপপ্রবাহের মাঝে তীব্র গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ফ্রান্সের একাংশ। মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৬৮ হাজার পরিবার বর্তমানে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।
জাতীয় গ্রিডের একটি প্রধান ট্রান্সফর্মারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এই বিশাল বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
উপকূলীয় অঞ্চল ফিনিস্তেরের এরগু-গ্যাবেরিক কমিউনে গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে প্রথম এই বিপর্যয় শুরু হয়। ফরাসি বিদ্যুৎ গ্রিড অপারেটর আরটিই এবং এনেডিসের কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাতভর চেষ্টা চালালেও বুধবার বিকেলের আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবারের শেষভাগ নাগাদ পুরো ফ্রান্সে বিদ্যুৎহীন গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৬ হাজারে।
এবারের গ্রীস্মে ফ্রান্স ইতিহাসের উষ্ণতম দিন পার করছে। গত মঙ্গলবার দেশটির গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০০৩ এবং ২০১৯ সালের সব রেকর্ডকে পেছনে ফেলেছে। তীব্র এই দাবদাহের কারণে বিশ্বখ্যাত আইফেল টাওয়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া, আগামী শনিবার পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য দৈনিক পরিদর্শনের সময় দুই ঘণ্টা কমিয়ে এনেছে লুভর মিউজিয়াম। চরম আবহাওয়ার কারণে দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন এবং বিভিন্ন ক্রীড়া সূচিতেও বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটেছে।
ক্রমবর্ধমান এই সংকটের মুখে ফ্রান্সের ৫৮টি বিভাগে সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা বা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্যারিসসহ ব্রিটানি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন এবং বায়ুমণ্ডলীয় বিপর্যয়ের কারণে এই গরম বাতাস দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘের জলবায়ু সংস্থাও সতর্ক করেছে যে, আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রার আরও নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে।
এদিকে, অসহ্য গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে নদী বা জলাশয়ে নামতে গিয়ে গত এক সপ্তাহে ফ্রান্সে অন্তত ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনার শিকার হওয়াদের বেশিরভাগই তরুণ। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ভয়াবহ পরিস্থিতি আগামী সপ্তাহান্ত পর্যন্ত চলতে পারে। চলমান এই দুর্যোগ মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০০৩ সালের সেই ভয়াবহ স্মৃতিকে, যখন দেশটিতে তাপপ্রবাহের কারণে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ। অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, গত চার বছরে ইউরোপে অতিরিক্ত গরমজনিত কারণে দুই লক্ষাধিক মানুষ মারা গেছেন, যার একটি বড় অংশই সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল। সূত্র: ফ্রান্স২৪
মনোয়ারুল হক/
