বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন দিগন্ত, সই হলো ৩ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক
নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২২ জুন) : বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও গতিশীল করার লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পারদানা পুত্রা’ ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি, বিনিয়োগ এবং সন্ত্রাসবাদ দমন সংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সহযোগিতা দলিল আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত ও বিনিময় হয়।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা। প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার জন্য জোরালো আহ্বান জানানো হয়। এর পাশাপাশি, আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত যেসব বাংলাদেশি কর্মী বর্তমানে অনিয়মিত (অবৈধ) হয়ে পড়েছেন, তাদের আইনি বৈধতা প্রদান এবং ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের বিষয়টি নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের উৎপাদিত আম, বিভিন্ন ফলমূল ও শাকসবজির প্রবেশাধিকার বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে একে অপরকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আসিয়ানের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার ক্ষেত্রে এবং ‘রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ (RCEP)-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মালয়েশিয়ার জোরালো সমর্থন প্রত্যাশা করা হয়। এছাড়া দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক ফোরামে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে।
শীর্ষ এই বৈঠকের সফল সমাপ্তিতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আনুষ্ঠানিকভাবে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হস্তান্তর করেন। এর মধ্যে রয়েছে:
- সংস্কৃতি বিষয়ক একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক।
- সন্ত্রাসবাদ দমনে যৌথ গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সহযোগিতা দলিল।
- দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি।
উভয় দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই একান্ত ও প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকটি আগামী দিনে ঢাকা-কুয়ালালামপুর সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মনোয়ারুল হক/
