বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশি বাহিনীর অনন্য ত্যাগ: জাতিসংঘের বিশেষ সম্মাননা

নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৩০ মে) : বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অসামান্য অবদান, বীরত্ব এবং আত্মত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেছে জাতিসংঘ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীকে এই বিশেষ স্বীকৃতি ও সম্মান জানানো হয়।

২৯ মে (শুক্রবার) ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে শান্তি বজায় রাখতে নিয়োজিত বিভিন্ন দেশের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে সংস্থাটি। এ সময় বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের শান্তিরক্ষীদের সাহসী ভূমিকার কথা বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, বর্তমানে পৃথিবীর নানা প্রান্তে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষী মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত রয়েছেন। অত্যন্ত গর্বের বিষয় হলো, এই বিশাল বাহিনীর মধ্যে ৪ হাজারেরও বেশি সদস্য বাংলাদেশের, যারা প্রতিকূল পরিবেশেও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। জাতিসংঘ জানিয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে রাজনৈতিক ও আর্থিক বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে, শান্তিরক্ষীদের কাজ বিশ্বব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তাদের অবদান শান্তিতে বিনিয়োগের গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এসেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন সংকটপূর্ণ অঞ্চলে শান্তিরক্ষীরা বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দিচ্ছেন, উত্তেজনা কমাতে কাজ করছেন এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করছেন। তিনি বলেন, তারা ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো, নির্বাচন আয়োজন এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

মহাসচিব আরও জানান, ১৯৪৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শান্তিরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে গত বছরই ৫৯ জন নিহত হয়েছেন। তিনি শান্তিরক্ষীদের প্রতি হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে বিশ্বে স্থিতিশীলতা ও আশার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এ খাতে টেকসই রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত সদস্যদের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বাড়াতে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দিবসটি উপলক্ষে আগামী ৫ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শান্তিরক্ষী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এ সময় নিহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণে বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হবে এবং মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক প্রদান করা হবে।

এছাড়া ‘ইউএন মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার’ এবং ‘ইউএন ওম্যান পুলিশ অফিসার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারও প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

সূত্র: জাতিসংঘের বিবৃতি

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ