মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (১৮ এপ্রিল) : যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখলে হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। শনিবার দেশটি এই সতর্কবার্তা দেয়। লেবাননে যুদ্ধবিরতির পর গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথটি পুনরায় চালুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ ঘোষণা আসে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

হরমুজ প্রণালি চালু হওয়ায় শুক্রবার বিশ্ব শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং ওয়াশিংটনে আশাবাদ তৈরি হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, একটি শান্তি চুক্তি ‘খুব কাছাকাছি’ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে।

তবে এই দাবি নাকচ করেছে ইরান। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, ইউরেনিয়ামের মজুত কোথাও হস্তান্তর করা হবে না।

ইরান আরও সতর্ক করে বলেছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ যদি তাদের বন্দর থেকে আসা জাহাজগুলোকে বাধা দেয়, তাহলে আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা হতে পারে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক মাধ্যমে বলেন, ‘অবরোধ চলতে থাকলে হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে না।’

তিনি জানান, এ প্রণালিতে চলাচলের জন্য ইরানের অনুমতি লাগবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধের সিদ্ধান্ত অনলাইনে নয়, বাস্তব পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী জানে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘যাকে তারা নৌ অবরোধ বলছে, তা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন। এর যথাযথ জবাব ইরান দেবে।’

এই উত্তেজনা এমন এক দিনে দেখা দিল, যেদিনকে ট্রাম্প ‘চমৎকার ও অসাধারণ’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে পাকিস্তান ও উপসাগরীয় মিত্রদের মধ্যস্থতার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে প্রণালির নিরাপত্তায় ন্যাটোকে ‘দূরে থাকতে’ বলেন।

এএফপিকে দেওয়া ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা সবার জন্য ভালো হবে বলে মনে হচ্ছে। আমরা একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি আছি।’

তিনি আরও দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে এখন আর ‘কোনো অমীমাংসিত বিষয় নেই’।

সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির আশায় তেলের দাম ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার তা আরও কমে যায়। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর আরও একটি ছাড় দিয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়তে পারে এবং তেলের দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর শান্তি উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির সুযোগে বাস্তুচ্যুত মানুষ দক্ষিণ বৈরুত ও দক্ষিণাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে।

৩৭ বছর বয়সী আমানি আত্রাশ বলেন, ‘আমাদের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। এটা গর্ব ও বিজয়ের অনুভূতি। আশাকরি, এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে।’

ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে নতুন করে হামলা চালাতে নিষেধ করেছে এবং লেবাননের সঙ্গে কাজ করে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করলে লেবাননে সংঘর্ষ শুরু হয়।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা যুদ্ধকালীন কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করছে।

তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান এখনো শেষ হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো আমাদের লক্ষ্য অর্জন করিনি।’ হিজবুল্লাহকে ধ্বংস ও নিরস্ত্রীকরণই প্রধান লক্ষ্য।

ইসরাইল সতর্ক করে বলেছে, নির্দিষ্ট এলাকা থেকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা সরে না গেলে আবার সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে।

অন্যদিকে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, তার দেশকে আর কোনো বাইরের শক্তির সংঘাতের ক্ষেত্র হতে দেওয়া হবে না।

এদিকে, হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরাইলের যেকোনো লঙ্ঘনের জবাব দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ