স্যার আমি নির্দোষ, আমাকে মাফ করে দিন: আদালতে সোহেল রানা
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৩ জুন) : রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষে সোহেল রানা নিজেকে প্রথমে নির্দোষ বলে দাবি করলেও পরে দোষ স্বীকার করে বলেন, স্যার আমি দোষ করেছি, ডলারও করেছে, আমাকে মাফ করে দিয়েন। আমার স্ত্রী কোনো দোষ করে নাই।
বুধবার (৩ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারকের উদ্দেশে এসব কথা বলেন তিনি।
আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে সকাল ১১টায় এজলাসে হাজির করা হয়। এরআগে সকাল সোয়া ৮টায় তাদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তাদের মহানগর দায়রা আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
বিচারক ১৬ জন সাক্ষীর রেকর্ড করা সাক্ষ্য আসামিদের পড়ে শোনান।
শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের জন্য তারিখ ধার্য করেন আদালত।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ খবরের কাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার প্রসিকিউশন পক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু ও আসামির পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহসহ অন্যান্য আইনজীবীরা আদালতে হাজির হয়েছেন।
এরআগে ২ জুন মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তার, বোন রাইসা, ডাক্তার, ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশসহ ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহন শেষ হয়।
সাক্ষীর মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী, সুরতহাল রিপোর্টের সাক্ষী, জব্দ তালিকার সাক্ষী, একই বিল্ডিংয়ের সাক্ষী, প্রতিবেশীসহ ভিকটিমের মা-বাবা, বোন ও অন্যান্য আত্মীয়রাও ছিলেন।
১ জুন আদালত সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিন বিকেলে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।
গত ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল দুই আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নেয়। এর আগে একই দিনে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতারে সক্ষম হয় পুলিশ।
এই ঘটনায় ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মনোয়ারুল হক/
