ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্রাহকদের ভিড় কমেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৩ এপ্রিল) : বর্তমান সরকার দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। আজ শুক্রবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিলিং স্টেশনে যানবাহনচালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাননি। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার কথা জানালেও ডিপো থেকে কম তেল পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্টেশনসংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী গতকাল সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত। তাই এপ্রিল মাস পুরোপুরি নিরাপদ।

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ডিজেলের চাহিদা গড়ে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টন। আর অকটেন ও পেট্রল–এ দুটো আমাদের মাসে দরকার হয় প্রায় ৭০ হাজার টন। দৈনিক পেট্রল-অকটেন লাগে প্রায় ১ হাজার ২০০ টন এবং ডিজেল ১ হাজার ৪০০ টন। সংকট না থাকলেও পাম্পের চালকরা তেল পাচ্ছেন না কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন একই উত্তর দিচ্ছি–গত বছর যা সরবরাহ করেছি, এ বছরও তাই করছি। কিন্তু মানুষের মধ্যে এখনো প্যানিক বায়িং (আতঙ্কিত হয়ে কেনা) বন্ধ হয়নি। এর ফলে সরবরাহ চেইনে মাঝে মাঝে বিঘ্ন ঘটছে। পাম্প মাঝে মাঝে বন্ধ থাকছে, এটাও আমরা দেখছি। তবে স্বাভাবিক সরবরাহে কোনো সংকট নেই।’

অবৈধ মজুত ও শাস্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী ইতোমধ্যে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। কোম্পানির কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ কৃষকরা ডিজেল পাচ্ছেন না–এ বিষয়ে যুগ্ম সচিব বলেন, ‘আজকে সকালেও মন্ত্রী তিন এমডিকে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং আমি সকালবেলা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সভা করেছি। আমাদের ক্লিয়ার ইনস্ট্রাকশন হচ্ছে কৃষকদের সার ও ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

অন্যদিনের মতো গতকালও রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা যায় চালকদের দীর্ঘ লাইন। আসাদগেটের সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনে ব্যক্তিগত গাড়ির লাইন ধানমন্ডি ২৮ নম্বর ছাড়িয়ে গেছে। এই পাম্পে মোটরসাইকেল আসে ইকবাল রোড হয়ে আসাদগেট দিয়ে। এ সময় রকিব  নামের এক চালক বলেন, ‘কোথায় লাইন শুরু করব প্রথমে বুঝতেই অনেক ঘুরতে হয়েছে। তারপর ইকবাল রোডে লাইন শুরু করি। ২ ঘণ্টার মতো লাইনে থাকার পর ৫০০ টাকার তেল পেলাম।’

অন্য চালকদেরও একই অভিযোগ। এখানে-সেখানে ঘুরে লাইন দিয়ে তেল পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বয়ে যাচ্ছে। এ সময় ফিলিং স্টেশনের অপারেটররা বলেন, ‘আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তেল থাকলে দিচ্ছি। না থাকলে দিতে পারছি না। পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’

আসাদগেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশনেও দেখা যায় চালকদের লাইন চন্দ্রিমা উদ্যান ছুঁয়ে গেছে। কিন্তু ফিলিং স্টেশন বন্ধ। এ ব্যাপারে তালুকদার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার তন্ময় বারি বলেন, ‘আমরা চাহিদামতো তেল পাচ্ছি না। দেখা গেছে চাহিদা ৪০ হাজার লিটার, কিন্তু দিচ্ছে এর চেয়ে কম। এজন্য দিনের বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকছে পাম্প। এমন পরিস্থিতিতে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

রাজধানীর তেজগাঁও, নীলক্ষেত, কল্যাণপুরসহ অন্য ফিলিং স্টেশনেও দেখা যায় অভিন্ন দৃশ্য। তেল না থাকায় সেগুলো বন্ধ ছিল। ফিলিং স্টেশনের সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিপো থেকে যে তেল দিচ্ছে তা ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। রশি বা বাঁশ দিয়ে আটকে রাখতে হচ্ছে পাম্প।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে দেশে জ্বালানি তেল পেতে হাহাকার পড়ে যায়। সরকার বলছে তেলের কোনো সংকট নেই। এপ্রিল মাসেও তেলের দাম না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তার পরও ছোট হচ্ছে না চালকদের লাইন।

সারা দেশেও দেখা গেছে জ্বালানি তেল না পাওয়ার একই চিত্র। ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল না পেয়ে ফিলিং স্টেশনের মালিকরা ধর্মঘটের ডাক দিচ্ছেন। অনেকে বেশি দামে বিক্রি করছেন। গ্রেপ্তারও হচ্ছেন। পাম্পে ধাক্কাধাক্কি, হট্টগোল হচ্ছে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ