বেইজিং সফরে যাচ্ছেন পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (১৯ মে) : বিশ্ব রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক তৎপরতার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বেইজিং। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই বেইজিং সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ট্রাম্প বেইজিং ছাড়ার মাত্র চার দিনের মাথায় দুই পরাশক্তির শীর্ষ নেতার এই বৈঠক বৈশ্বিক রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পুতিনের এই সফরের প্রাক্কালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজেদের মধ্যে বিশেষ ‘শুভেচ্ছাপত্র’ বিনিময় করেছেন। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বের ৩০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই চিঠি বিনিময় হয়। শুভেচ্ছাবার্তায় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উল্লেখ করেন, মস্কো ও বেইজিংয়ের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমাগত গভীর ও সুদৃঢ় হচ্ছে।

চীনের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন ও রুশ প্রেসিডেন্টদের এই ব্যাক-টু-ব্যাক সফর প্রমাণ করে যে বেইজিং অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বিশ্ব কূটনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। দুই পরাশক্তির শীর্ষ নেতাদের বেইজিংকে ঘিরে এই ব্যস্ততা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।

ক্রেমলিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুদিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে পুতিন ও শি জিনপিং দুই দেশের মধ্যকার ‘ব্যাপক অংশীদারত্ব ও কৌশলগত সহযোগিতা’ আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। এছাড়া পুতিন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় অর্থনীতি ও বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও বৈঠকে বসবেন।

রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, পুতিনের এই সফরটি ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘গুড-নেইবারলিনেস অ্যান্ড ফ্রেন্ডলি কোঅপারেশন’ (সদ্ভাব ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা) চুক্তির ২৫তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে সাজানো হয়েছে।

পশ্চিমা কূটনীতিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও চীনের এই অভূতপূর্ব ঘনিষ্ঠতা পশ্চিমাদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে ২০২২ সালে ইউক্রেন পরিস্থিতির পর থেকে রাশিয়ার প্রতি চীনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন মস্কোকে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় বড় শক্তি জুগিয়েছে।

সম্পর্কের গভীরতা বজায় রেখে শি জিনপিং ও পুতিন এ পর্যন্ত ৪০ বারেরও বেশি সময় মুখোমুখি সাক্ষাৎ করেছেন, যা যেকোনো পশ্চিমা নেতার সাথে শি জিনপিংয়ের সাক্ষাতের সংখ্যার চেয়ে বহুগুণ বেশি। প্রায় এক দশকের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম বেইজিং সফর শেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদায় নেওয়ার পরপরই পুতিনের এই সফর ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ