ষড়যন্ত্রকারীদের উচিত জবাব দেবে জনগণ
বাগেরহাট প্রতিনিধি, এবিসিনিউজবিডি, (৫ নভেম্বর): দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালে যেভাবে দেশের মানুষ ষড়যন্ত্রকারীদের উচিত জবাব দিয়েছিল, সামনের দিনেও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একইভাবে তাদের প্রতিহত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সরকারপ্রধান বলেন, “আজ যেহেতু জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাই জনগণের সরকার দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করছে। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, আর সেই পরিকল্পনাকেই ষড়যন্ত্রকারীরা ভেস্তে দিতে চাইছে।”
ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের শ্রমিক ভাইদের ও সাধারণ মানুষকে আজ রুখে দাঁড়াতে হবে, যাতে কোনোভাবেই ষড়যন্ত্রকারীরা সুযোগ না পায়। কারণ এখন সময় এসেছে দেশ গঠনের এবং মানুষের ভাগ্যের স্থায়ী পরিবর্তন ঘটানোর।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা গত ১৫-১৬ বছরে দেশের অবস্থার কোনো উন্নতি করতে পারেনি, জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং এদেশ থেকে অর্থ-সম্পদ বিদেশে পাচার করেছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। আজ তারা সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে এবং মিল-কারখানা ধ্বংস করতে চাচ্ছে।
শ্রমিকদের অধিকার ও মজুরি বোর্ডের বিষয়ে তিনি জানান, শ্রমিক ভাই-বোনদের মজুরি নিয়ে কিছু দাবি-দাওয়া রয়েছে। ইতিমধ্যে সেই দাবিগুলো বিবেচনা করার জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বোর্ড কাজ শুরু করে দিয়েছে। ইনশাআল্লাহ আগামী দুই-এক মাসের মধ্যেই মজুরি বোর্ড নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করবে, যাতে শ্রমিকরা আরও ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।
দেশের শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান, শিল্পের প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য গতিশীল করতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একসময় খুলনা দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা থেকে শুরু করে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত নতুন করে হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়।
এর আগে সকালে মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কাটাখালীতে পথসভা শেষে তিনি হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং পরবর্তীতে খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের (সিজন-২) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
মনোয়ারুল হক/
