জামিন পেয়েছেন পরীমণি
বিনোদন ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৫ নভেম্বর): বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা ভাঙচুর, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শামসুন্নাহার স্মৃতি, যিনি পরীমণি নামে পরিচিত।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরীমণির পক্ষে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত বুধবার নির্ধারিত দিনে সাক্ষ্যগ্রহণের সময় আদালতে অনুপস্থিত থাকায়, আদালত পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের জামিন বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এই মামলায় অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে পরীমণি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ওই দিনও পরীমণি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছিলেন।
২০২৪ সালে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে পরীমণি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মারধরের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে মামলার অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না মেলায় তাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছিল তদন্ত কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী ও বোট ক্লাবের সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমণিসহ তিনজনকে আসামি করে এই নালিশি (সিআর) মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
অন্যদিকে, একই ঘটনার জেরে ওই বছরের ১৪ জুন ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় পৃথক একটি মামলা দায়ের করেছিলেন পরীমণি। বর্তমানে ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সেই মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। ২০২২ সালের ১৮ মে ওই মামলায় অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পরীমণি আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
মনোয়ারুল হক/
