শিশু নির্যাতন-সহিংসতা রোধে কঠোর ট্রাইব্যুনাল
নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৩ নভেম্বর): শিশু সহিংসতা প্রতিরোধ ও দমন কার্যক্রমে আইনি প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে সারা দেশে গঠন করা হয়েছে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। বর্তমান ব্যবস্থায় এসব অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাজার সঙ্গে আর্থিক জরিমানার আদেশও দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ মাসে এই আদালতে মোট ২টি মামলায় মৃত্যুদণ্ড এবং ৪টি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
গত ৭ জুন রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় মাত্র ৫ কার্যদিবসের মধ্যে দেওয়া হয়। ওই মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে সরকার ২০০০ সালে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করেছিল। এই আইনের আওতায় অপরাধ বিচারার্থে প্রতিটি জেলা সদরে ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রয়েছে, যা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নামে পরিচিত। বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।
এরই ধারাবাহিকতায় শিশু ধর্ষণ ও সহিংসতা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করা, ভিকটিমের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া এই বিশেষ ট্রাইব্যুনালগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এই কাঠামোরই অংশ হিসেবে গত বছরের জুন মাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
এই ট্রাইব্যুনালে মূলত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারার অধীন সংঘটিত ধর্ষণের পর হত্যা মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ৯ মাসে ট্রাইব্যুনালে মোট ৪৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সাজার রায় এসেছে। সাজাপ্রাপ্ত ৬টি মামলার মধ্যে ২টিতে মৃত্যুদণ্ড এবং ৪টিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১ হাজার ৯২১টি।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী জানান, শিশু সংক্রান্ত অপরাধের মামলায় সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই এই ট্রাইব্যুনালগুলো গঠন করা হয়েছে। বর্তমান আদালতগুলোতে কেবল কারাদণ্ডই নয়, বরং মৃত্যুদণ্ড ও বড় অঙ্কের অর্থদণ্ডও প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি রায়ে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থ সরাসরি ভিকটিমের পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। ধর্ষণের পর হত্যা মামলার ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে এবং ট্রাইব্যুনাল তা অত্যন্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করছে।
সূত্র: বাসস
মনোয়ারুল হক/
