সিটি গ্রুপকে এখনই ঋণখেলাপি না করার পরামর্শ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২৬ অক্টোবর):  দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপের ঋণ পরিশোধে অনিয়মিত পরিস্থিতি দেখা দিলেও, সেগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে খেলাপি ঋণ হিসেবে চিহ্নিত না করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি যাতে বর্তমান সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়, সে জন্য প্রয়োজন সাপেক্ষে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃ তফসিলের সুবিধা দেওয়ারও তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী, দেশি-বিদেশি মোট ৪৭টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিকট এই শিল্পগ্রুপটির মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা।

রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শগুলো প্রদান করা হয়। উক্ত বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদ ও সরোয়ার হোসেনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহী এবং সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. হাসান সরাসরি অংশ নেন।

এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত গ্রুপটির বিশাল অংকের ঋণ খেলাপি না করার একটি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্ধারিত সেই সময়সীমা সম্প্রতি শেষ হওয়ার পর কয়েকটি ব্যাংক গ্রুপটির ঋণ খেলাপি হিসেবে নথিভুক্ত করে। এমনকি কিছু ব্যাংক বকেয়া ঋণ আদায়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়াও শুরু করেছিল। এমন প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যস্থতায় এই বিশেষ ত্রিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্যাংকগুলোকে ঋণ আপাতত খেলাপি না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

উক্ত বৈঠকে ব্যাংক খাতের প্রতিনিধিত্ব করেন সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ব্যাংক এশিয়ার এমডি সোহেল আর কে হুসেইন, ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি তারেক রেফাত উল্লাহ খান, প্রাইম ব্যাংকের এমডি ফয়সাল রহমান, ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি হাসান ও. রশিদ, পূবালী ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ আলী এবং সাউথইস্ট ব্যাংকের এমডি খালিদ মাহমুদ খানসহ আরও বেশ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, পূর্ববর্তী নির্দেশনার মেয়াদ শেষ হওয়ায় কিছু ব্যাংক নতুন করে গ্রুপটির ঋণ খেলাপি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ব্যাংকিং খাতের নিয়ম অনুযায়ী এক প্রতিষ্ঠানে খেলাপি হলে অন্য জায়গা থেকেও ঋণ বা অন্যান্য সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে তীব্র আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে গ্রুপটি। এই বাস্তবতার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, এমন কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না যার ফলে একটি সক্রিয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

এই বিষয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান যে, সিটি গ্রুপ অতীতে কখনোই ঋণ পরিশোধে খেলাপি হয়নি এবং তাদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো নেতিবাচক অভিযোগও নেই। ফলস্বরূপ, সংশ্লিষ্ট সবাই চান প্রতিষ্ঠানটি এই সাময়িক সংকট কাটিয়ে আবারও সফলভাবে ঘুরে দাঁড়াক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকেও ব্যাংকগুলোকে এমন নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে প্রতিষ্ঠানটির পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে না যায়।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ