চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হলেন লুলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (২৬ অক্টোবর): নাটকীয় এক মোড় পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছেন লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা। কট্টর ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে রেকর্ড চতুর্থবারের মতো দেশটির ক্ষমতার আসনে বসতে যাচ্ছেন তিনি। জোরালো ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান নেওয়া এই বামপন্থী নেতা প্রথম ধাপের ভোটাভুটিতে পিছিয়ে থাকলেও রানঅফ বা দ্বিতীয় ধাপে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। প্রায় নিরানব্বই শতাংশ ভোট গণনার পর দেখা গেছে, ৮০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ রাজনীতিক অর্জন করেছেন ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী ৪৫ বছর বয়সী বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২৫ শতাংশ সমর্থন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার স্থানীয় সময় রাত নয়টা বাজার ঠিক পরপরই ব্রাজিলের সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্ট লুলাকে বিজয়ী বলে ঘোষণা করে। দ্বিতীয় দফার এই নির্বাচনে ৫১ শতাংশের বেশি ভোট নিশ্চিত করার পাশাপাশি চতুর্থ মেয়াদে তাকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দেখতে রায় দিয়েছেন ৬ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি ভোটার।

অন্যদিকে, পরাজিত বলসোনারোর ঝুলিতে গেছে ৫ কোটি ৯০ লাখের কিছু বেশি ভোট, যা মোট প্রদত্ত ভোটের ৪৮ দশমিক ২৫ শতাংশ।

এই অভাবনীয় বিজয়ের সুবাদে ব্রাজিলের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন লুলা। আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্রাজিলে এর আগে কোনো রাজনীতিবিদ প্রথম ধাপের নির্বাচনে পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয় ধাপে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে নিতে পারেননি।

গত অক্টোবরের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে বলসোনারোর কাছে অল্প ব্যবধানে হোঁচট খেয়েছিলেন লুলা। ওই ফলাফল তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছিল এবং হতাশ করে তুলেছিল দেশটির প্রগতিশীল জনসাধারণকে।

আশিরের দশকে ব্রাজিলে গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুদ্ধারের পর এমন ঘটনা আর দ্বিতীয়টি ঘটেনি। প্রথম ধাপে রানারআপ হওয়া কোনো প্রার্থী এর আগে কখনো চূড়ান্ত ধাপের লড়াইয়ে বিজয়ী হতে পারেননি।

তবে গত রোববার সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখালেন লুলা। এই জয়ের সুসংবাদ আসতেই সাও পাওলোর রাজপথে উল্লাসে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ। একটি স্থানীয় হোটেলে বসে নিজের রাজনৈতিক সঙ্গীদের নিয়ে ভোটের ফলাফল উপভোগ করছিলেন এই প্রবীণ নেতা।

নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পর লুলার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর রেজিনাল্ডো লোপেস ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘বিষয়টি আমার কাছে এখনো অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে… এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে ব্রাজিল বিশ্ববাসীকে পরিষ্কার বার্তা দিল যে কট্টর ডানপন্থীরা মূলত ফ্যাসিবাদ ধারণ করে। তারা কৃষ্ণাঙ্গ, সুবিধাবঞ্চিত গরিব মানুষ, রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং সমকামীদের প্রতি বৈষম্যমূলক মনোভাব পোষণ করে… এখন আমরা এই দেশের গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে যাচ্ছি।’

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ