সৃজনশীল শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২৫ অক্টোবর): সৃজনশীল শিল্পকে দেশের মূলধারার অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘সফট পাওয়ার’ বা সাংস্কৃতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করছে বর্তমান সরকার। শিল্প-সংস্কৃতি, গ্রামীণ কারুশিল্প, চলচ্চিত্র, সংগীত ও থিয়েটারকে প্রথাগত অর্থনৈতিক ভাবনার বাইরে এনে জিডিপি প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘Creative Footprints’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এতদিন অর্থনৈতিক চিন্তাধারায় শিল্প ও সংস্কৃতি খাতকে পেছনের সারিতে রাখা হতো। তবে বর্তমান প্রশাসন এই গতানুগতিক ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে সৃজনশীল অর্থনীতিকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির নতুন উপাদান হিসেবে সংযুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের একার পক্ষে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তাই সঠিক নীতি সহায়তা ও অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে খাতটিকে এগিয়ে নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বাজেটে সুনির্দিষ্ট তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে এবং বেসরকারি উদ্যোক্তারাও এতে অর্থায়ন করতে এগিয়ে আসছেন।

এই খাতের প্রসারের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশীয় কারুশিল্পী, চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং এবং অ্যামাজন, ইবে ও আলিবাবার মতো আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে পণ্য বিপণনের ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে প্রান্তিক শিল্পীরা তাদের তৈরি পণ্যের সঠিক মূল্য ও নগদায়ে সুবিধা পাবেন, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক উপাদানের অপরিসীম গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি কেবল ব্যবসা বা শিল্পচর্চা নয়; এটি দেশের জন্য একটি বড় ‘সফট পাওয়ার’। সংগীত, থিয়েটার ও হস্তশিল্পের মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের শক্ত অবস্থান তৈরি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারাহ কুক। এছাড়া বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এনামুল হক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ