যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো পরিস্থিতিতে লড়াইয়ে প্রস্তুত তেহরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (২৮ সেপ্টেম্বর): যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কোনো সামরিক সংঘাত বাঁধলে তা মোকাবিলায় তেহরান সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রয়েছে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে একই সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের পথও খোলা রাখতে চায় দেশটি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এনবিসি নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘মিট দ্য প্রেস’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি এই কথা জানান। তিনি বলেন, যেকোনো বৈদেশিক আগ্রাসনের বিপরীতে তেহরান অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে থাকবে। বর্তমান পরিস্থিতি যদি শেষ পর্যন্ত সর্বাত্মক বা প্রলয়ংকরী যুদ্ধে রূপ নেয়, তবুও ইরান বিন্দুমাত্র পিছু হটবে না। তবে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনীতির মাধ্যমেই সমস্যার সমাধানে গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। এখন পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর।

প্রস্তাব ও কাতার মধ্যস্থতা গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি সমঝোতা প্রস্তাব পাঠায় তেহরান। ওই প্রস্তাবে আগামী সাত দিনের মধ্যে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করে দিয়ে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এর বিনিময়ে তেহরান ওয়াশিংটনের কাছে তাদের জব্দকৃত অর্থ ও সম্পদ অবমুক্ত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। আরাগচি উল্লেখ করেন, এই শর্তগুলো সম্পূর্ণ নতুন নয়; গত জুনে উভয় দেশের মধ্যে হওয়া একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতেও এই একই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তবে সেই সমঝোতাটি বাস্তবায়নের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় নতুন করে হামলা শুরু হলে তা ভেস্তে যায়। আরাগচি এজন্য সরাসরি মার্কিন প্রশাসনের দিকেই সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানান যে তিনি ইরানের প্রস্তাবটি খারিজ করে দিয়েছেন। যদিও আরাগচি দাবি করেছেন, ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমে প্রস্তাব নাকচ করার কথা বললেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, তেহরান কূটনৈতিক চ্যানেলের কোনো সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না এবং শান্তির পথকে সবসময় অগ্রাধিকার দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের দিকে তারা তাকিয়ে নেই, বরং দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষাই তাদের কাছে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।

এর আগে জাতিসংঘের স্থায়ী মার্কিন প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ জানান, মূলত কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ অর্থ অবমুক্ত করার বিষয়টি ওয়াশিংটন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। তাছাড়া অতীতে আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার মাধ্যমে তেহরান পূর্বের চুক্তি লঙ্ঘন করেছে—এমন অভিযোগ তুলে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে তিনি ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করার পথ বেছে নেবেন নাকি নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবেন, তা নিয়ে এখনো ভাবছেন। এমনকি চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেহরানের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। সূত্র: এনবিসি নিউজ

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ