ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২৩ সেপ্টেম্বর): প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি এবং টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা দুটি মামলায় ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আমবারীন রেজাসহ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই আদেশ দেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত অন্য চার আসামি হলেন ফুডপান্ডার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক জুবায়ের সিদ্দিকী, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক, ডেলিভারি বিভাগের পরিচালক ও ভারতীয় নাগরিক মো. তাবারেজ খান এবং সিনিয়র ম্যানেজার ও পরিচালক মোহাম্মদ সাজেদুল হক।
বাদীপক্ষের আইনজীবী কাজী মফিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশে গুলশান থানা পুলিশ মামলাগুলোর তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। বুধবার আদালত সেই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, ‘প্রোটিন অ্যান্ড পেরিশেবল’ (পিএনপি) নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির বাদী হয়ে গত বছরের ৩ জুলাই জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে এই মামলাগুলো দায়ের করেন।
মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত গুলশান থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে এক মামলায় গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মশিউর রহমান এবং অন্য মামলায় একই থানার এসআই মো. সাখাওয়াত হোসেন আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
মামলার অভিযোগে বাদী শিহাব উল্লেখ করেন, ২০২২ সালের ২৩ জুন ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর দেশীয় ও আমদানিকৃত ফলমূল এবং শাকসবজি সরবরাহ শুরু করেন তিনি। শুরুর দিকে নিয়মিতভাবে পাওনা পরিশোধ করা হলেও পরবর্তীতে আসামিরা জালিয়াতির পথ বেছে নেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বাদীর ১ লাখ টাকার পণ্য ক্রয়ের আদেশের বিপরীতে মাত্র ১ থেকে ১০০ টাকার মতো নগণ্য পরিমাণ অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়া হতো। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তির ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে এবং একই দিনে একাধিক স্থানে ভুয়া ‘রিটার্ন টু ভেন্ডর’ (আরটিভি) স্লিপ তৈরি করে পণ্য ফেরত দেখানোর অজুহাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে রাখা হয়।
এই দুটি মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছেন মামলার বাদী।
মনোয়ারুল হক/
