নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে নিহত বেড়ে ৪৬৯
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (২৮ আগস্ট): নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে পৌঁছেছে। ভয়াবহ এ দুর্যোগের পর এখনও হাজার হাজার মানুষের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার ভোটেকোশী নদীতে ভয়াবহ বন্যার পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ। নিখোঁজদের সন্ধান এবং মরদেহ উদ্ধারে উদ্ধারকারী দলগুলো নদীর প্রবাহপথ ও আশপাশের নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে। তবে বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
বুধবার সকালে উত্তর নেপালের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় আকস্মিকভাবে বন্যা আঘাত হানে। এতে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে প্রবল স্রোতের সঙ্গে পানি ও বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি, সেতু, সড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত ও ভেসে যায়। দুর্গত কয়েকটি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকরাও দেশের অন্যান্য অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
দেশটির বিভিন্ন জেলা থেকে হতাহত ও নিখোঁজদের তথ্য সংগ্রহ করে সমন্বয়ের কাজ এখনও চলছে। ফলে ভয়াবহ এই দুর্যোগে মোট ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়।
নিখোঁজদের তালিকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পর্যটক ও ট্র্যাকারও রয়েছেন। নেপাল পর্যটন বোর্ড বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ১২৭ জন নেপালিসহ মোট ৬৬৭ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং সেগুলো যাচাই করছে নেপাল পর্যটন বোর্ড, সংস্কৃতি, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা।
অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ আরও কার্যকর করতে ট্রাভেল এজেন্সি, ট্র্যাকিং কোম্পানি, গাইড, স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিখোঁজদের খোঁজ, উদ্ধার এবং দুর্গত এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নেপালি সেনাবাহিনী, নেপাল পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ফোর্সের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় পৌঁছানো এবং আটকে পড়া মানুষদের সরিয়ে নিতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থলপথে উদ্ধারকারী দলগুলো নদীর তীর, নিম্নাঞ্চল ও আশপাশের জনবসতিতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রবল বন্যায় দুর্গত অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছানো এবং উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
হঠাৎ সৃষ্ট এই ভয়াবহ বন্যার সঠিক কারণ এখনও তদন্তাধীন। হিমালয়ের পাদদেশে কোনো ধরনের পূর্বাভাস ছাড়াই আকস্মিক প্লাবন শুরু হয়। পরে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকা ধরে দ্রুত তা বিস্তৃত হয়। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানরত মানুষজন নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
মনোয়ারুল হক/
