কলাপাড়ার পায়রা বন্দরে নাবিক পারাপারের আড়ালে চলে অবৈধ তেল ও মাদকের ব্যবসা
নিজস্ব প্রতিবেদক (পটুয়াখালী), এবিসিনিউজবিডি, (১৯ জুলাই) : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বন্দর এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী অপরাধ চক্র। পণ্যবাহী লাইটারেজ জাহাজের নাবিকদের তীরে আনা-নেওয়ার আড়ালে এখানে চলছে লাখ লাখ টাকার চোরাই জ্বালানি তেল ও মাদকের রমরমা বাণিজ্য।
লোকদেখানো এই পারাপারের জন্য ব্যবহৃত ফাইবার বোটগুলোতে বিশেষভাবে তৈরি গোপন কেবিন রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিদিন জাহাজ থেকে হাজার হাজার লিটার তেল পাচার করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, জাহাজের মাদকাসক্ত ক্রুদের চাহিদা মেটাতে তেলের বিনিময়ে সরবরাহ করা হচ্ছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মারাত্মক মাদক।
বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, ধানখালীর মরিচবুনিয়া আরপিসিএল জেটি ঘাট সংলগ্ন সরকারি খাসজমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা ও টিনের ঘর তৈরি করেছে এই সিন্ডিকেট। সেখানেই চোরাই তেল খালাস ও মজুদ করা হয়। জাহাজের অসাধু কর্মীদের কাছ থেকে লিটারপ্রতি ৭০-৮০ টাকায় কেনা এই তেল পরে স্থানীয় বাজারে ১০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। চক্রটির প্রভাব এতটাই বিস্তার করেছে যে, নির্দিষ্ট এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ করার সাহস নেই এবং সাংবাদিকদের প্রবেশেও রয়েছে অলিখিত নিষেধাজ্ঞা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এই চক্রটি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে। মাঝেমধ্যে পুলিশ তেল জব্দ করলেও জাল কাগজপত্র দেখিয়ে তা ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ঝামেলা এড়াতে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার মাধ্যমে প্রশাসনের সঙ্গে মাসিক চুক্তির বন্দোবস্ত করা হয়েছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
তবে কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন এবং জানান, পূর্বে জব্দকৃত তেল বৈধ কাগজপত্র দেখেই খালাস দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান জানান, সরকারি জমি দখলের বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, পায়রা সমুদ্রবন্দরের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন শরীফ বিষয়টিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর উল্লেখ করে বলেন, বন্দর এলাকায় এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে কোস্টগার্ডের তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে।
মনোয়ারুল হক/
