শিশু-নারীর সুরক্ষায় জাতিসংঘের নেতৃত্বে বৈশ্বিক ঋণ-সহায়তা কাঠামোর আহ্বান

নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৮ জুলাই) : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার জেরে তীব্র আর্থিক সংকটে ভুগছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। সংকুচিত হয়ে পড়েছে এসব রাষ্ট্রের রাজস্ব আয়। এই পরিস্থিতিতে ঋণ পুনর্গঠন, ঋণ মওকুফ ও পরিশোধের সময়সীমা স্থগিত করাসহ একটি টেকসই বৈশ্বিক সমাধান জরুরি। আর এ লক্ষ্যেই জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক ঋণ-সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার জোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এটি বাস্তবায়িত হলে উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শিশু ও নারীর কল্যাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে তাদের বিনিয়োগ ধরে রাখতে পারবে। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জনের ধারা বজায় রাখতেও এই বৈশ্বিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

নিউইয়র্কে ইউনিসেফ সদরদপ্তরে সংস্থাটির মানবিক কার্যক্রম ও সরবরাহ বিভাগের উপ-নির্বাহী পরিচালক টেড শেইবানের সঙ্গে বৈঠকে ড. তিতুমীর বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ফলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপ বাংলাদেশের রাজস্ব সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত করেছে।

তা সত্ত্বেও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের আলোকে একটি গণতান্ত্রিক মানবকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার নারী, শিশু ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ। বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকীও উপস্থিত ছিলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, নতুন সরকার নারীকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে সর্বজনীন জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে।

তিনি জানান, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে গর্ভাবস্থা, শিশুর বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, প্রতিবন্ধিতা ও বার্ধক্যসহ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সহায়তা দেওয়া হবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরে সরকারের প্রস্তাবিত ‘এক শিশু, এক কার্ড, এক নম্বর ও এক ওয়ালেট’ কৌশলের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন, বিদ্যালয়ে ভর্তি এবং সরকারি সেবাপ্রাপ্তিকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করা হবে।

তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ডিজিটাল প্রশিক্ষণ ও আধুনিক শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউনিসেফের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, জাদুঘর পরিদর্শন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমকে শিশুদের সার্বিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইউনিসেফের উপ-নির্বাহী পরিচালক টেড শেইবান বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানান এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকেও স্বাগত জানান। তিনি সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা সত্ত্বেও শিশু ও নারীসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সরকারের গৃহীত উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন। শিক্ষা, প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ, পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিশুকেন্দ্রিক তথ্যব্যবস্থা উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউনিসেফের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ