হত্যার সময় জিয়াউর রহমানকে দেখে ‘কাঁপছিলেন মেজর মোজাফফর, দীর্ঘ ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১৭ জুলাই) : সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার হয়েছেন ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেন।

ডিএমপির ১৬ জুলাই প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ ৭৭ বছর বয়সী এই সাবেক কর্মকর্তাকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে অবহিত করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে ঢাকা সেনানিবাসে মিলিটারি পুলিশের একটি দলের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থে মোজাফফরের উল্লেখ রয়েছে। সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ: এ লিগ্যাসি অব ব্লাড’ বইয়ে জিয়া হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। বইটির ত্রয়োদশ অধ্যায় অনুযায়ী, ভোররাতে গোলাগুলির শব্দে জিয়াউর রহমান কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলে তার সবচেয়ে কাছে ছিলেন মেজর মোজাফফর ও লেফটেন্যান্ট মোসলেহউদ্দিন। মাসকারেনহাসের বর্ণনায়, মোজাফফর সেই মুহূর্তে দৃশ্যত কাঁপছিলেন এবং মোসলেহউদ্দিন জিয়াকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। বইটিতে বলা হয়েছে, মোজাফফর ও মোসলেহউদ্দিন তখনো মনে করছিলেন, জিয়াকে হত্যা নয়, সার্কিট হাউস থেকে তুলে নেওয়া হবে।

কিন্তু এরপরই লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান সামনে এসে সাবমেশিনগান দিয়ে জিয়াকে গুলি করেন। বইটিতে উল্লেখ রয়েছে, সার্কিট হাউস থেকে সেনানিবাসে ফেরার পথে মোজাফফর তার সঙ্গীকে বলেছিলেন যে তিনি জানতেন না রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করা হবে; তার ধারণা ছিল, জিয়াকে শুধু বের করে আনা হবে। তবে এটি মাসকারেনহাসের বইয়ে দেওয়া বক্তব্য; আদালতে শপথ নিয়ে দেওয়া বা জেরার মাধ্যমে যাচাই করা সাক্ষ্য নয়।

হত্যাকাণ্ডের পর সামরিক আদালতে ১৮ কর্মকর্তার বিচার ও ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড হলেও মোজাফফর ও মেজর খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। দীর্ঘ পলাতক জীবনে মোজাফফর ভারতে ছদ্মনামে আত্মগোপন করেছিলেন এবং নব্বইয়ের দশকে ব্যাংককে গিয়ে মেজর জেনারেল মইনুলের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন বলে জানা যায়। দীর্ঘ সাড়ে চার দশক পর তার এই গ্রেপ্তারের ফলে জিয়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের পরিকল্পনা, দীর্ঘকালীন পলাতক জীবনের সহযোগী এবং সেদিনের ঘটনার বহু অমীমাংসিত প্রশ্ন নতুন করে উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ