ইরানে বেসামরিক অবকাঠামোতে মার্কিন হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (১৭ জুলাই) : টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের ওপর মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনী যৌথ হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই অভিযানকে ইরানের সামরিক ও উপকূলীয় প্রতিরোধ সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা বলে দাবি করলেও, তেহরানের অভিযোগ—হামলায় ব্যাপক বেসামরিক স্থাপনাকেও নিশানা করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে বন্দর আব্বাসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেতু, রেল স্টেশন ও বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর মিলেছে, যার মধ্যে একটি সেতু ধ্বংসের সত্যতা নিশ্চিত করেছে বিবিসি।
ইরানি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর তথ্যমতে, মার্কিন এই আগ্রাসনে অন্তত সাতজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে মার্কিন হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তারা ওমানে মার্কিন সামুদ্রিক নজরদারি রাডার, কুয়েত ও বাহরাইনের বেশ কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং সিরিয়ার আল-তানফ মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে এই সংঘাতের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও; জর্ডান তাদের আকাশসীমায় তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইরাকের কুর্দি বাহিনী এরবিলের আকাশে আটটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে যখন পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে ওমান উপসাগরে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং মার্কিন নৌবাহিনী ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল সতর্ক করে বলেছেন, এই অচলাবস্থা দ্রুত নিরসন না হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মক সংকটে পড়বে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চীন ও পাকিস্তান উভয় পক্ষকেই যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে।
যুদ্ধের দামামার মধ্যেও কূটনীতির দরজা খোলা রাখার বার্তা দিয়েছে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও তেহরানের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী, তবে হরমুজ প্রণালিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। জবাবে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে কোনো একতরফা শর্ত মেনে নেবে না তেহরান।
এরই মধ্যে মার্কিন বন্দি ডেনা কারারির মুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও কারারির আইনজীবী তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে ওয়াশিংটনে ফেরার কথা জানালেও, ইরানের বিচার বিভাগ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে কোনো মার্কিন বন্দিকে মুক্তি বা বিনিময় করার খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
মনোয়ারুল হক/
