ডিজিটাল জুয়া ও ফিক্সিং রুখতে কঠোর আইন: সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল, ৫ কোটি টাকা জরিমানা
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৩০ জুন) : প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গড়ে ওঠা আধুনিক অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সির ফাঁদ রুখতে অবশেষে দীর্ঘ ১৫৯ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করা হয়েছে। ডিজিটাল যুগের এসব অপরাধ দমনে আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে যুগোপযোগী ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’। নতুন এই আইনে ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংয়ের মতো গুরুতর অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা জরিমানার কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।
আজ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে গত ২৩ জুন বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হলে তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। কমিটি পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর আজ এটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
নতুন এই আইনে ডিজিটাল জুয়া, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, বাজি, বাজিকর এবং ম্যাচ ফিক্সিংসহ মোট ২৪টি বিষয়ের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অপরাধের ধরন বিবেচনা করে এতে ১৪টি ভিন্ন ভিন্ন শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ ব্যাখ্যা করে বলা হয়, ১৮৬৭ সালের ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন’ বর্তমান যুগের ভার্চুয়াল ক্যাসিনো ও অনলাইন বেটিং প্রতিরোধে একেবারেই কার্যকারিতা হারিয়েছিল। ভিপিএন, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে যেভাবে জুয়া ও অর্থপাচার বাড়ছিল, তা দেশের অর্থনীতি ও তরুণ সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইন অনুযায়ী, অনলাইন জুয়ার উদ্দেশ্যে টাকা লেনদেন করা, বিদেশি জুয়ার সাইটের এজেন্ট হিসেবে কাজ করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার প্রচারণা চালানো এখন থেকে বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া জুয়ার বিজ্ঞাপন বা স্পনসরশিপের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ভোগ করতে হবে কঠোর শাস্তি। এই আইনের আওতায় অপরাধীদের অপরাধভেদে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত জেল এবং সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হতে পারে। নতুন আইনের সবচেয়ে কঠোর দিক হলো, এর অধীনে সব অপরাধ ‘আমলযোগ্য’ ও ‘অজামিনযোগ্য’ হবে এবং এর বিচারকাজ চলবে সাইবার ট্রাইব্যুনাল কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালতে।
মনোয়ারুল হক/
