শ্রীপুরে ইয়াবাসহ ফায়ার সার্ভিস কর্মী আটক: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাদের জড়িয়ে ভিন্ন খবরের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক (শ্রীপুর), এবিসিনিউজবিডি, (২৯ জুন) : মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সারঙ্গদিয়া এলাকায় ১০ পিস ইয়াবাসহ সাইদুর রহমান নামের ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মীকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। গত ২৫ জুন সারঙ্গদিয়া হামিম ব্রিক্স এলাকাধীন মাঠের ভেতর এই ঘটনা ঘটে। আটক সাইদুর রহমান শ্রীপুর সারঙ্গদিয়া ফায়ার স্টেশনের সদস্য বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে মাঠের ভেতর মাদক কেনাবেচার সময় স্থানীয় লোকজন ফায়ারকর্মী সাইদুর রহমানকে ১০ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইদুর নিজে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং তার ব্যাচমেট ইমরান নামের অপর এক ফায়ারকর্মীও এই চক্রের সাথে যুক্ত বলে জানান।
এলাকাবাসী সূত্রে আরও অভিযোগ উঠেছে, সাইদুর আটক হওয়ার পর আব্দুর রশিদ মোল্লা নামের স্থানীয় এক তথাকথিত সাংবাদিক ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি সাইদুরের পরিবারের সাথে ২ লক্ষ টাকার চুক্তি করে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শেখ আবু সাইদ ও মুরাদ খানকে প্রস্তাব দেন যেন সাইদুরকে পুলিশে না দেওয়া হয়। তবে যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা সেই অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হয়ে মাদক ব্যবসায়ী সাইদুরকে শ্রীপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
স্থানীয়দের দাবি, ফায়ারকর্মী সাইদুরের পরিবারের কাছ থেকে ওই মধ্যস্থতাকারী সাংবাদিক কোনো টাকা আদায় করতে না পারায় ক্ষুব্ধ হন। পরবর্তীতে তিনি ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় নিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শেখ আবু সাইদ ও মুরাদ খানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার শুরু করেন।
এদিকে ফায়ার সার্ভিস ও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, ২৫ জুন রাতে বাজারে যাওয়ার পথে সাইদুরকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ইটভাটায় আটকে রাখা হয়। সেখানে চাঁদা দাবি এবং জোরপূর্বক ইয়াবা দিয়ে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
শ্রীপুর থানা পুলিশ ও মাগুরা ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ইয়াবা উদ্ধারের সত্যতা এবং এর পেছনে কোনো আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত শত্রুতার বিষয় রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মনোয়ারুল হক/
