জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১ জুন) : দেশের মানুষের প্রতিটি আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শনকে ধারণ করেই বর্তমান প্রশাসন পরিচালিত হচ্ছে এবং নির্বাচনী ইশতেহারের সফল বাস্তবায়নই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
রোববার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভবিষ্যতের দিনগুলো চ্যালেঞ্জিং হতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী একটি সফল ও কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনায় দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন,
“আগামী দিনগুলো আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন। এই সময়ে সামান্যতম অবহেলা বা হেলাফেলা দেশের এবং আগামী প্রজন্মের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। শহীদ জিয়া যেভাবে স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন, আমাদের সেই ধারা বজায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে যে ইশতেহার শুধু বিএনপির ছিল, জনগণের দুই-তৃতীয়াংশ ম্যান্ডেটের পর তা এখন পুরো দেশের মানুষের ইশতেহার। এই রূপরেখায় শহীদ জিয়ার প্রতিটি দিকনির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং তা বাস্তবায়ন করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।”
দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কেবল মন্ত্রী বা এমপিদের পরিশ্রমে সফলতা আসবে না। তৃণমূলের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ সকল অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সরকারের প্রতিটি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে মাঠে থেকে সহযোগিতা করতে হবে।
বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের বিচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাত এবং গণতন্ত্রকে যেভাবে ধ্বংস করা হয়েছে, তা পুরো জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। বর্তমান রাজনৈতিক সরকার এই খাতগুলোর সংস্কার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর।
পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয় রোধে পারিবারিক শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি জানান, দেশে ফেরার পর তিনি পারিবারিক মূল্যবোধের কিছুটা ঘাটতি লক্ষ্য করেছেন এবং এটি উত্তরণে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি চারণ করে আবেগঘন কণ্ঠে তারেক রহমান বলেন, “প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সততা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমেই বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ পরিচিতি পেয়েছিল। একজন সন্তান হিসেবে এটি আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের।”
সবশেষে তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির সফল নির্বাচনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমেই শহীদ জিয়ার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভায় সভাপতিত্ব করেন।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম মনি এবং ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
এছাড়া অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. লুৎফর রহমান এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন জিয়াউর রহমানের জীবন ও অবদান নিয়ে আলোচনা করেন।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর দলের প্রতিষ্ঠাতার স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন এবং তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মনোয়ারুল হক/
