অভিনেত্রী টুইশা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় ‘নতুন মোড়’

বিনোদন ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৩০ মে) : ভারতের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী টুইশা শর্মার ‘রহস্যজনক’ মৃত্যুর ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। প্রথমে এটি সাধারণ যৌতুক আর নির্যাতনের মামলা হিসেবে দেখা হলেও এখন সিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসছে তথ্যপ্রমাণ লোপাট, ডিজিটাল তথ্য কারসাজি এবং মৃত্যুর আসল ঘটনা আড়াল করার চেষ্টার মতো বিভিন্ন অভিযোগ।

সম্প্রতি টুইশার শাশুড়ি অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিংকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। এর আগে টুইশার স্বামী সমর্থ সিংকেও এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

শুক্রবার (২৯ মে) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার তদন্তে নেমে সিবিআই জানতে পেরেছে, টুইশার নামে বিভিন্ন কোম্পানিতে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার শেয়ার ছিল।

অভিযোগ উঠেছে, সমর্থ ও তার মা গিরিবালা সিং এই শেয়ারগুলো নিজেদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য টুইশার ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতেন। এই বিশাল অঙ্কের আর্থিক সম্পদই পারিবারিক কলহের মূল কারণ কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে টুইশার পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে দেওয়া বয়ানে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের দাবি, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে টুইশাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। এমনকি তার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে গর্ভপাত করতেও বাধ্য করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন অভিযুক্তরা। মৃত্যুর আগে বিভিন্ন সময় তার বাবা-মায়ের কাছে পাঠানো বার্তায় এসব যন্ত্রণার কথা জানিয়েছিলেন টুইশা।

তদন্তে ‘টানেল ভিউ’ ও ৪০ মিনিটের রহস্য

ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে সিবিআই ‘টানেল ভিউ ইনভেস্টিগেশন’ নামক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে টুইশার শেষ কয়েক ঘণ্টার একটি ডিজিটাল অবতার তৈরি করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, টুইশা জিম এলাকায় যাওয়ার পর থেকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মধ্যবর্তী সেই ৪০ মিনিটে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশা রয়েছে।

প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সন্দেহ, মৃত্যুর পর প্রকৃত সত্য আড়াল করতে পরিকল্পিতভাবে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে। টুইশার মৃত্যুর পর কেন পুলিশকে না জানিয়েই তড়িঘড়ি করে লাশ নামানো হলো এবং কেন সিপিআর দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া পুলিশের সরকারি নথিতে টুইশার উচ্চতা নিয়ে অসঙ্গতি এবং সিসিটিভি ফুটেজের মাত্র একটি অংশ প্রকাশ্যে আনাকেও সন্দেহজনক মনে করছে সিবিআই।

বর্তমানে মা ও ছেলেকে সামনাসামনি বসিয়ে জেরা করার প্রস্তুতি চলছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ মে ভোপালের কাটারা হিলসের তিনতলা বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় টুইশাকে। এরপর থেকেই শুরু হয় রহস্য।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ