ফজলুর রহমানের যে বক্তব্যে সংসদে তোলপাড়, এক্সপাঞ্জের দাবি জামায়াত আমিরের
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২৮ এপ্রিল) : সংসদে পারিবারিক পরিচয় এবং রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের করা মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট ওই বক্তব্যকে ‘অসংসদীয়’ দাবি করে তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের পরপরই দাঁড়িয়ে এ প্রতিক্রিয়া জানান জামায়াত আমির।
এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
এর আগে, মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, শহিদ বা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলে তা ‘ডাবল অপরাধ’। তার এ মন্তব্য ঘিরেই সংসদে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরে তা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ায় রূপ নেয়।
শফিকুর রহমান বলেন, একজন প্রবীণ সংসদ সদস্য হিসেবে ফজলুর রহমানের প্রতি সম্মান রেখেই তিনি কথা বলছেন, তবে নিজের অবদান তুলে ধরতে গিয়ে অন্যের অবদান খাটো করার অধিকার কারও নেই।
ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ বিরোধীদলীয় নেতার
তিনি অভিযোগ করেন, ফজলুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে তাকে আক্রমণ করেছেন এবং তার শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য হওয়ার দাবি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক দল করবেন বা কোন আদর্শ অনুসরণ করবেন- এটি তার নাগরিক অধিকার। এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার অধিকার রাষ্ট্র বা সংবিধান কাউকে দেয়নি।
তার ভাষায়, ‘আমার আইডেন্টিটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা গুরুতর অপরাধ, আর আমার রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে মন্তব্য করা বাড়তি অপরাধ।’
জামায়াতের আমির স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দিতে হবে।
একইসঙ্গে তিনি সংসদে শালীন ভাষা ও যুক্তিনির্ভর আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, কাউকে আক্রমণ বা অপমান করে রাজনৈতিক সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়, বরং এতে সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। যুক্তি ও তথ্যভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।
শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর স্পিকার জানান, সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে যদি কোনো অসংসদীয় শব্দ বা অংশ থাকে, সেগুলো কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মনোয়ারুল হক/
