দুই সরকারের ব্যর্থতায় ঋণের কিস্তি আটকাল আইএমএফ

নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (১৮ এপ্রিল) : রাজস্ব ও ব্যাংক খাত সংস্কার নিয়ে আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার দায় পড়েছে বর্তমান সরকারের ওপর। বিগত দুই সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণ করতে না পারায় বর্তমান তারেক রহমানের সরকারের সময় এসে জুন প্রান্তিকের ঋণের কিস্তি স্থগিত করেছে আইএমএফ।

গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফ এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, তিনি সাম্প্রতিক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরুর সঙ্গে বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘দেশটি যে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে তা নিয়ে আমাদের মধ্যে ভালো আলোচনা হয়েছে। আমরা উল্লেখ করেছি, শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় থাকায় এখনই উচ্চাকাক্সক্ষী সংস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণের উপযুক্ত সময়। তারা আমাদের কথা শুনেছেন, এখন আমরা দেখব তারা কীভাবে সাড়া দেন।’ শ্রীনিবাসন বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে এবং দেশটির অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণে যেটুকু প্রয়োজন তার চেয়েও অনেক নিচের স্তরে রয়েছে। ‘রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ভালো নয়। এটি কম এবং গত তিন বছরে আরও কমেছে। রাজস্ব খাত, আর্থিক খাতের পুনর্বাসন এবং বিনিময় হার সংস্কারসহ আর্থিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, আইএমএফ সমর্থিত ঋণ কর্মসূচির তিনটি মূল ভিত্তিতেই এখনো উল্লেখযোগ্য কাজ বাকি রয়েছে। শ্রীনিবাসন বলেন, আইএমএফের টিম বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরে এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য জানানো হবে। ২০২৪ সালে জুলাই গণ অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত গত শেখ হাসিনা সরকারের সময় ২০২৩ সালে আইএমএফের সঙ্গে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঋণের পরিমাণ আরও ৮০ কোটি ডলার বাড়ানো হয়। ফলে ঋণ কর্মসূচির মোট আকার দাঁড়ায় ৫৫০ কোটি ডলার। এর মধ্য থেকে বাংলাদেশকে মোট ৩৬৪ কোটি ডলার ঋণের অর্থ ছাড় করেছে আইএমএফ। গত ডিসেম্বরে আরেকটি কিস্তি পাওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করে ঋণের অর্থ ছাড় করার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে তা আটকে রাখে সংস্থাটি। ডিসেম্বরের বকেয়া কিস্তির সঙ্গে আগামী জুনের একটি কিস্তি মিলিয়ে জুনেই ১৩ কোটি ডলার পাওয়ার আশা করেছিল বাংলাদেশ। তবে গত মাসে বাংলাদেশ সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক করে আইএমএফের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল জুনে কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ