অফিস সহায়ককে পুলিশে দিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (১৭ এপ্রিল) : বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহপ্রধান নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত চেয়ে করা একটি রিটের ফাইল হাইকোর্টে উপস্থাপন না করে রাষ্ট্রের ক্ষতি করার অভিযোগে এক অফিস সহায়ককে পুলিশে দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল)।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. ইমরান হোসেনকে শাহবাগ থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে ওই অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এনটিআরসিএর প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহপ্রধান নিয়োগ সংক্রান্ত রিটের ফাইল যথাসময়ে সরবরাহ না করায় রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি), আদালতে সরকারি বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেননি।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আদালতে দায়িত্বরত আইন কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অভিযুক্ত অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। সংশ্লিষ্ট রিটটি জনগুরুত্বপূর্ণ, অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং রাষ্ট্রের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের পর বিষয়টি প্রশাসনিক কর্মকর্তার নজরে এনে অ্যাটর্নি জেনারেল প্রাথমিক অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন। তদন্তে ফাইল রিসিভকারী মো. মনিরুজ্জামান সরকার, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, সংশ্লিষ্ট কোর্টে দায়িত্ব পালনকারী অপর অফিস সহায়ক সম্রাট বাহার এবং নিয়োজিত ডিএজি খন্দকার বাহার রুমির সঙ্গে কথা বলা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হয়, অভিযুক্ত অফিস সহায়ক মো. ইমরান হোসেন উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফাইল আদালতে উপস্থাপন করেননি এবং কোনো প্রলোভনে পড়ে রাষ্ট্রের ক্ষতি করার চেষ্টা করেছেন।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন, যারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে। তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মনোয়ারুল হক/
