সাবেক স্পিকারকে আদালতে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আসক
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৯ এপ্রিল) : সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর আটক, হেফাজতে নেওয়া ও আদালতে উপস্থাপনের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ধানমন্ডি এলাকায় আত্মীয়ের বাসায় অবস্থানকালে গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করে এবং পরবর্তীতে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায় এমন তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এ ঘটনায় আসক প্রশ্ন তুলেছে, একজন নাগরিক, বিশেষ করে একজন নারীকে গভীর রাতে আটক করার যৌক্তিকতা কী ছিল? এবং দিনের বেলায় আরও স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল কি না?
সংস্থাটি আরও জানায়, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আদালতে উপস্থাপনের সময় যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে, তা ন্যূনতম শৃঙ্খলা ও মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে তাকে হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়তে হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আসক বলেছে, গ্রেপ্তার ও হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, ফৌজদারি কার্যবিধি এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ২০২৫ সালের ২২ মে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ৬২৬ জন ব্যক্তি দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় নেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তালিকায় ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর নামও ছিল। তবে পরবর্তীতে তার অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো স্পষ্ট তথ্য না আসায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
আসক মনে করে, রাষ্ট্রের সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও বিচার বিভাগ নাগরিকের মানবাধিকার সুরক্ষায় সাংবিধানিকভাবে দায়বদ্ধ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও মানবিক আচরণের প্রতিফলন নিশ্চিত করা জরুরি।
সংস্থাটি ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
মনোয়ারুল হক/
