রেকর্ড ৬ কার্যদিবসে রামিসা হত্যার বিচার, দেশের ইতিহাসে প্রথম: আইনমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৭ জুন) : দেশের বিচারিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। বহুল আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া মাত্র ৬ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সচিবালয়ে তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আজ রোববার (৭ জুন) রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আইনমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বেদনাদায়ক এই ঘটনাটির বিচার কাজ মাত্র ছয়টি কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হয়েছে। এটি বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড এবং এর আগে এত দ্রুত কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হয়নি।
আইনমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এই দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে। অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের উপমহাদেশের ইতিহাসে ১৮৮২ সালে নদীয়ার একটি ঘটনায় নদীয়া সেশন কোর্টে মুল্লুক চাঁদ নামে এক ব্যক্তি তার নয় বছর বয়সী কন্যাকে হত্যার মামলার বিচার একদিনে সম্পন্ন হয়েছিল। এরপর এত দ্রুত বিচার আর সম্ভব হয়নি। আমরা আইনের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করে মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন করেছি। ঘোষিত শাস্তিতে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। আশা করি, উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে।
এর আগে বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে ঢাকার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত রামিসা হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছর বয়সী এক শিশুর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই ফ্ল্যাটে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর সোহেল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার পাঁচ দিনের মাথায়, গত ২৪ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য শিশু ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।
তবে সেদিন থেকেই ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হওয়ায় ১ জুন মামলার অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করা হয়। ঈদের ছুটি শেষে ওই দিন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
অভিযোগ গঠনের দিন সোহেল ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তিকে ঘটনার জন্য দায়ী করার চেষ্টা করেন। তবে তদন্ত কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপক্ষ জানান, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পরদিন ২ জুন মামলার ১৭ সাক্ষীর মধ্যে রামিসার বাবা, মা, বোন ও স্বজনসহ ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপর ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং ৪ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
পরে যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ৭ জুন দিন ধার্য করেন। বিচারিক আদালতগুলোতে অবকাশকালীন ছুটি চললেও মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে ট্রাইব্যুনালের ছুটি বাতিল করা হয়েছিল।
মনোয়ারুল হক/
