দুর্নীতি রুখতে বন্দর হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল: অর্থমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৪ জুন) : দেশের বন্দরগুলোতে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুরো ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি জানান, দেশের রাজস্ব ও বাণিজ্য খাতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা রয়েছে বন্দরে, যা দূর করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর বনানীর হোটেল সারিনায় ‘ঢাকা ফোরাম ইনিশিয়েটিভ’ আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সংগঠনের প্রধান কৌশলবিদ আশফাক জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভির গনি।

বক্তব্যে বন্দরে থাকা স্ক্যানিং মেশিন অচল রাখার প্রবণতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন,”বন্দরে আধুনিক স্ক্যানিং মেশিন থাকার পরেও প্রায়ই তা নষ্ট বলে অজুহাত দেওয়া হয়। এই ফাঁকি আর চলবে না। আমি এনবিআর চেয়ারম্যানকে অবিলম্বে এগুলো কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছি।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে অনেক ভালো নীতি বা পলিসি থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয় না। বিশেষ করে কাস্টমসের মূল সমস্যা হলো সঠিক নীতিমালার অভাব। সরকার এখন জনগণের স্বার্থে কাস্টমস নীতি সংস্কার করতে যাচ্ছে এবং এর জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।

ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজ করার ওপর জোর দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমানে ব্যবসা শুরু করতে ১৯টি ভিন্ন ভিন্ন লাইসেন্স নিতে হয়, যা জোগাড় করতে ব্যবসায়ীদের ৬ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত টেবিল টু টেবিল ঘুরতে হয়। এই ভোগান্তি দূর করতে সরকার একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে। এর মাধ্যমে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে এক জায়গা থেকেই (ওয়ান-স্টপ সার্ভিস) সব ধরনের অনুমতি বা লাইসেন্স দেওয়া সম্ভব হবে।

মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা কোনো অলিগার্ক বা বিশেষ গোষ্ঠীর সরকার নই। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার এবং জনগণের সেবাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আগামী ১১ মে নতুন বাজেট পেশ করা হবে।”

অর্থনৈতিক দর্শনে পরিবর্তনের আভাস দিয়ে মন্ত্রী জানান, দেশের অর্থনীতি মানেই শুধু বড় বড় শিল্প বা জিডিপি নয়। এই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে এবার বাজেটের পরিধি তৃণমূল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সরকারের নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কামার, কুমার, তাঁতিসহ সব প্রান্তিক পেশাজীবীকে বাজেটের আওতায় আনা হচ্ছে। এছাড়া সংস্কৃতি খাতের উন্নয়নে ১৩০ বিঘা জমির ওপর একটি বিশেষ ‘থিয়েটার সিটি’ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

উন্নয়ন প্রকল্পের নামে অতীতের অর্থ অপচয় ও পকেট ভারী করার সংস্কৃতির সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে বহু অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। তবে চলমান যেসব প্রকল্পের কাজ ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে গেছে, সেগুলো বন্ধ করা হবে না। কিন্তু নতুন যেকোনো প্রকল্প পাসের ক্ষেত্রে ৪টি কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এই শর্তগুলো শতভাগ পূরণ না হলে কোনো নতুন প্রকল্প অনুমোদন পাবে না, সরাসরি ফেরত পাঠানো হবে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ