জনমুখী শাসনব্যবস্থা নিশ্চিতে কাজ করছে ত্রয়োদশ সংসদ: স্পিকার
নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৪ জুন) : জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ একটি জনমুখী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
তিনি উল্লেখ করেন, একটি সংসদের প্রকৃত মর্যাদা ও গৌরব কেবল তার সাংবিধানিক ক্ষমতার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের ওপরই তা গভীরভাবে নির্ভরশীল।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে সংসদ সদস্যদের জন্য ‘সংবিধান, কার্যপ্রণালি-বিধি ও সংসদীয় কার্যক্রম’ শীর্ষক ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি এবং বিরোধী দলের নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদ পরিচালিত হয় সংবিধান ও প্রাসঙ্গিক আইনগত কাঠামো দ্বারা। কার্যপ্রণালি-বিধি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান সংসদ-সদস্যদের উপর অর্পিত দায়িত্ব ও কার্যাবলি বাস্তবায়নের জন্য সহায়তা করে।
স্পিকার বলেন, কার্যপ্রণালি বিধি কেবল প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি দায়িত্ব বাস্তবায়নের হাতিয়ার। তিনি বলেন, প্রস্তাব উত্থাপন ও বিল পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সঠিক ধারণা থাকার জন্য কার্যপ্রণালি বিধির জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
তিনি আরো বলেন, সংসদের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দায়িত্ব আইন প্রণয়ন, তদারকি ও নির্বাহী বিভাগকে জবাবদিহিতামূলক অন্তর্ভুক্তির আওতায় এনে সংসদ-সদস্যদের মাধ্যমে এগুলো বাস্তবায়ন করা।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদ কেবল রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয় না, গঠনমূলক বিরোধী দল ও সরকারি দলের সমান দক্ষতায় কার্যপ্রণালি বিধিতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে জনসম্পৃক্ততা ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে পরিচালিত হয়।
তিনি বলেন, সংসদীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণে ইউএনডিপি এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের ‘স্ট্রেইনদেনিং ইনস্টিটিউশনস, পলিটিক্স এন্ড সার্ভিসেস (এসআইপিএস)’ প্রোগ্রাম সংসদ-সদস্যদের কার্যকর অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনপ্রত্যাশা পূরণে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম এমপি বলেছেন, মানুষের শেখার সময় দোলনা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। আজকের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে আগত কেউ শিক্ষক বা ছাত্র নয়, বরং একে অপরের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে আমরা সবাই শিখবো।
তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে কার্যপ্রণালি-বিধি, সংবিধান এবং জাতীয় সংসদের রেওয়াজ ও রীতি-নীতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এই শিক্ষা মূলত তিনটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রথমত, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও আমরা গণতন্ত্রকে পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সক্ষম হইনি। দ্বিতীয়ত, সংসদকে আরও কার্যকর করে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি উন্নত ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা।
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের করের টাকায় সংসদ পরিচালিত হয়। সুশাসন, অর্থনৈতিক সংস্কার ও সর্বোপরি টেকসই গণতন্ত্র কীভাবে নিশ্চিত করা যায় – এ লক্ষ্যে সংসদ পরিচালিত হবে।
দুই দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন কোর্সের দ্বিতীয় গ্রুপে বৃহস্পতিবার সংসদীয় আসন, ১৫১ ময়মনসিংহ- ৬ হতে ধারাবাহিকভাবে ১৫৬ ময়মনসিংহ-১১, ১৫৮ নেত্রকোনা-২ থেকে ১৮৭ ঢাকা-১৪, ১৮৯ ঢাকা-১৬, ১৯১ ঢাকা-১৮ হতে ২৭৮ চট্টগ্রাম-১, ২৮০ চট্টগ্রাম-৩, ২৮২ চট্টগ্রাম-৫ হতে ৩০০ বান্দরবান আসনের নির্বাচিত সংসদ-সদস্যগণ এবং সংরক্ষিত নারী আসন ৩২৫ মহিলা আসন-২৫ হতে ৩৫০ মহিলা আসন-৫০ হতে নির্বাচিত সংসদ-সদস্যগণ অংশগ্রহণ করেন।
মনোয়ারুল হক/
