মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, খুলতে পারে বন্ধ শ্রমবাজারের দুয়ার
নিউজ ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৩ জুন) : দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানে নতুন আশার আলো ছড়াচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন মালয়েশিয়া সফর। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে চলতি মাসেই দেশটিতে যাচ্ছেন সরকারপ্রধান। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের শ্রমবাজারটি পুনরায় চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে এই সফর থেকেই।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে গত তিন মাস ধরেই নানা গুঞ্জন ছিল। ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সাথে সুষম কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার অংশ হিসেবে প্রথম সফর হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিকে বেছে নিয়েছেন তিনি। মালয়েশিয়া সফর শেষ করেই তার চীনে যাওয়ার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সব ঠিক থাকলে আগামী ২১ থেকে ২২ জুন কুয়ালালামপুর সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর ২৩ থেকে ২৬ জুন তার চীনে অবস্থান করার কথা রয়েছে। তবে তিনি কুয়ালালামপুর থেকে সরাসরি বেইজিং যাবেন, নাকি মাঝে ঢাকায় ফিরবেন—তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
কূটনীতিক ও মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, সাধারণত বড় কোনো অর্জন বা উপলক্ষ্যকে সামনে রেখেই সরকারপ্রধানদের এ ধরনের হাই-প্রোফাইল সফর নির্ধারিত হয়। এক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হওয়াটাই হতে পারে এই সফরের সবচেয়ে বড় চমক।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুতই চালুর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী ১০ দিন থেকে এক মাসের মধ্যে বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে আলোচনা চললেও নতুন কোনো সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হবে কি না, তা এখনো চূড়ান্ত নয়। তবে বাজার খোলার প্রক্রিয়াটি বেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
শ্রমবাজার বন্ধের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:
২০০৮: প্রথমবার জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ।
২০১৬: বাজার পুনরায় খুললেও দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে আবার বন্ধ।
২০২২: তৃতীয়বারের মতো বাজার খুললেও সিন্ডিকেট ও অব্যবস্থাপনার কারণে ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে আবারও বন্ধ হয়ে যায়।
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চেষ্টা করেও এই জট খুলতে পারেনি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত এপ্রিলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন মালয়েশিয়া সফর করে বাজারটি সচল করার জোরালো উদ্যোগ নেন।
এদিকে শ্রমবাজার খোলার আভাসে যেমন স্বস্তি ফিরছে, তেমনি নতুন করে ‘সিন্ডিকেট’ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম সতর্ক করে বলেন, পুরোনো সমঝোতা স্মারক সংশোধন না করলে আবারও নির্দিষ্ট কিছু এজেন্সি পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কারণ আগের চুক্তিতে এজেন্সি বাছাইয়ের ক্ষমতা মালয়েশিয়ার হাতে ছিল।
তবে এই সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন:
- শ্রমবাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বরদাশত করা হবে না।
- অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান থাকবে ‘জিরো টলারেন্স’।
- স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সব বৈধ এজেন্সি যেন কাজ পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর মালয়েশিয়া সরকার ১০টি শর্ত দিয়ে বাংলাদেশের কাছে রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা চেয়েছিল। পরবর্তীতে বাংলাদেশ এর মধ্য থেকে ৩টি শর্ত শিথিল করার জন্য মালয়েশিয়াকে অনুরোধ জানায়, যা নিয়ে বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।
মনোয়ারুল হক/
