স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার, অক্টোবরে ভোট আয়োজনের ভাবনা ইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২ জুন) : স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জুন মাসের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিধিমালা ও আচরণবিধি হালনাগাদ করে নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী আগস্টের শেষদিকে তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবর মাসে প্রথম ধাপের ভোট আয়োজনের চিন্তা চলছে।

ঈদের ছুটি শেষে সোমবার নির্বাচন কমিশনে অনুষ্ঠিত এক পুনর্মিলনী সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশনাররা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন। সেখানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয় এবং কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভা-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সরকার আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দিলেই যাতে কমিশন দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সম্ভাব্য সময়সূচি হিসেবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ভোট গ্রহণের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

তবে কমিশনের একটি সূত্রের মতে, বর্তমানে যে সময়সূচি বিবেচনায় আছে তা চূড়ান্ত নয়; প্রয়োজনে ভোট আয়োজনের সময় কিছুটা পিছিয়েও যেতে পারে।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ নির্বাচন আয়োজনের সময় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে কমিশনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদও ইঙ্গিত দেন যে, অক্টোবরের ভোট আয়োজন সম্ভব হলে তার অন্তত দেড় মাস আগে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। সরকার নির্দেশনা দিলে কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকবে বলে জানান তিনি।

সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা চলাকালে কমিশনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, জুন ও জুলাইয়ের মধ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে, যাতে আগস্ট থেকে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করা যায়।

এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মানের চেয়েও অধিক সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন আয়োজন হতে পারে। পরে ধাপে ধাপে সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় সব নির্বাচন শেষ করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট পৃথক বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ চলছে। সংশোধিত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয় পদ্ধতির নির্বাচন কার্যকর করতেই এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, খসড়া বিধিমালা ও আচরণবিধি আগামী ১৫ জুনের মধ্যে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে জনমত আহ্বান করা হতে পারে। নির্ধারিত সময় মতামত সংগ্রহ শেষে চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, নতুন গঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশন বাদে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, কয়েকশ উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও জেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি শতাধিক ইউনিয়ন পরিষদের আইনগত সময়সীমা বিবেচনায় আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ