মিয়ানমারে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত গ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ৩ চীনা নাগরিকসহ নিহত ৪৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (২ জুন) : মিয়ানমারের শান রাজ্যের নামখাম শহরের কাউং তাত গ্রামে একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এবং চীন সীমান্তবর্তী এই গ্রামে প্রাণঘাতী এই দুর্ঘটনায় ৩ জন চীনা নাগরিকসহ অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরও বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, নিহতদের মধ্যে মাত্র এক বছর বয়সী এক শিশুসহ মোট ছয়টি শিশু রয়েছে।

সীমান্তবর্তী এলাকায় বিদ্রোহীদের সাথে সরকারি বাহিনীর চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ বা এর পেছনে কার হাত রয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

ভয়াবহ এই বিস্ফোরণে কাউং তাত গ্রামের প্রায় ২০০টি এবং পার্শ্ববর্তী প্যান লোন গ্রামের আরও ১০০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইরত বিদ্রোহী গোষ্ঠী তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) জানিয়েছে, স্থানীয় খনির কাজে ব্যবহারের জন্য একটি গুদামে রাখা বিস্ফোরক থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

বিস্ফোরণে নিহত তিন চীনা নাগরিকসহ ৪৬ জনের মরদেহ রবিবার সন্ধ্যায় দাহ করা হয়েছে। সোমবার (১ জুন) থেকে উদ্ধার অভিযান পুনরায় শুরু হয়। উদ্ধারকারী দল আরও জানিয়েছে, আহত প্রায় ৭৪ জনকে চিকিৎসার জন্য কাছাকাছি নামখাম জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

টিএনএলএ জানিয়েছে, গত রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে এই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্তারিত উল্লেখ না করে গোষ্ঠীটি বলে, ‘এই বিস্ফোরণের কারণে অনেক স্থানীয় গ্রামবাসী প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং তাদের ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’

টিএনএলএর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খনির কাজের জন্য গুদামটিতে জেলিগনাইট (এক ধরনের শক্তিশালী বিস্ফোরক) জমা রাখা হয়েছিল। এই উপাদানটি কীভাবে বিস্ফোরিত হলো তা নির্ধারণ করতে ইতোমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, বিধ্বস্ত ভবনগুলোর মাঝে মাটি ও ধ্বংসস্তূপের এক বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ এবং গাছপালা থেকে তখনো ধোঁয়া উড়ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বাসিন্দা লিখেছেন, প্রথম দিকে কিছু গ্রামবাসী এটিকে বিমান হামলা বলে মনে করেছিলেন।

বিস্ফোরণের পরপরই তৈরি হওয়া আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ বর্ণনা করে তিনি লেখেন, ‘মানুষ কাঁদছিল, তাদের বাবা-মাকে খুঁজছিল। মনে হচ্ছিল যেন পৃথিবীটা ধ্বংস হয়ে গেছে।’ আবাসিক এলাকার এত কাছে বিস্ফোরক রাখার অনুমতি কেন দেওয়া হলো তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

টিএনএলএ মায়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত অন্যতম শক্তিশালী একটি জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী। এএফপির তথ্য অনুযায়ী, মায়ানমারের অনেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাদের সামরিক অভিযানের অর্থায়নের জন্য মূল্যবান খনিজ উত্তোলনের ওপর নির্ভর করে। তবে সেখানে শিথিল নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে খনি ধস এবং এই ধরনের অন্যান্য দুর্ঘটনা খুবই সাধারণ বিষয়। সূত্র: বিবিসি

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ