নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলার তাগিদ প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (২৪ মে) : বাংলাদেশের শিল্প ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন যতই দৃশ্যমান হচ্ছে, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক ও কর্মচারীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জটিও ততই বড় হয়ে উঠছে। দেশে কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়নের অভাব, অসচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতির কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক ধারাকে টেকসই রাখতে এবং উৎপাদনশীলতা আরও বাড়াতে হলে নিরাপদ কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ তৈরি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ-এর (আইইবি) সদর দপ্তরের শহিদ প্রকৌশলী ভবনের কাউন্সিল হলে আয়োজিত ‘Strengthening Occupational Safety and Workforce Excellence in Bangladesh’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আইইবির অকুপেশনাল সেফটি বোর্ড অব বাংলাদেশ (ওএসবিবি)।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইইবির প্রেসিডেন্ট ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউজ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু)।

তিনি বলেন, দেশে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অনেক আইন ও নীতিমালা থাকলেও সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগ খুব কম দেখা যায়।

সড়ক নিরাপত্তার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এখনো অনেক মোটরসাইকেল চালক ও যাত্রী হেলমেট ব্যবহার করেন না। একইভাবে অনেক গাড়িচালক সিটবেল্ট ছাড়াই গাড়ি চালান, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।

রিয়াজুল ইসলাম বলেন, অনেক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তার জন্য ফায়ার এক্সিট থাকলেও সেখানে মালামাল রেখে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বের হওয়ার সুযোগ ব্যাহত হয়।

তিনি বলেন, ‘শুধু আইন করলেই হবে না, তার বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তাবিষয়ক জনসচেতনতা বাড়াতে সরকার, পেশাজীবী সংগঠন ও গণমাধ্যমকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইইবির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান।

তিনি বলেন, বিশেষ করে শিপবিল্ডিং শিল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। অনেক শ্রমিক পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেন, ফলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা থেকেই যায়।

তিনি আরও বলেন, দেশে নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই নিরাপত্তাবিষয়ক শিক্ষা দিতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওএসবিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে তৈরি পোশাক, নির্মাণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষি এবং উৎপাদনমুখী শিল্পে শ্রমিকদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তবে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দক্ষতার ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন পথ, নিরাপদ বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

পাশাপাশি শ্রমিকদের নিয়মিত নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, মহড়া ও সচেতনতা কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানান তিনি।

সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া আরও বলেন, দক্ষতার অভাব কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তাই প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, কারিগরি শিক্ষা এবং শিল্পখাতভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম বাড়াতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও ডিজিটাল দক্ষতায় শ্রমশক্তিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া।

অনুষ্ঠানে আইইবির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা কেন্দ্রের নেতারা, কাউন্সিল সদস্য, বিভিন্ন প্রকৌশল বিভাগের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংস্থার প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ