চট্টগ্রামে তোপের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি
চট্টগ্রাম ব্যুরো, এবিসিনিউজবিডি, (১৫ এপ্রিল) : চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলী এলাকায় সাবেক সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের বাসায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি’র উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে হাসনাত আবদুল্লাহ সাবেক মেয়রের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা সেই বাসার সামনে অবস্থান নেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে হাসনাত আবদুল্লাহ সাবেক মেয়রের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা সেই বাসার সামনে অবস্থান নেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন।
বিষয়টি নিয়ে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারী সদস্য ও মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় বলেন, ব্যক্তিগত কাজে চট্টগ্রামে এসেছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় সাবেক মেয়র মনজুর আলমের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এদিকে, মঙ্গলবার রাতে এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাবেক মেয়রের বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। বৈঠকে উভয় নেতাই আগামী দিনে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রসঙ্গত, মোহাম্মদ মনজুর আলম ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন। মেয়র হওয়ার পর বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাও হয়েছিলেন। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের একটি আসনে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন। ২০২০ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কেনেন মনজুর আলম। তবে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।
নগরের আকবর শাহ থানার উত্তর কাট্টলী এলাকার ‘এইচ এম ভিলা’ নামে বাসভবনে বসবাস করেন সাবেক মেয়র মন্জু। বাসা থেকে বের হয়ে আসার সময় তোপের মুখে পড়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিত হাসনাতের একটি ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় যান। তার আসার খবর এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের এলাকার ছাত্রদল, জুলাই আন্দোলনের কর্মী ও ছাত্রজনতা বাসার সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দেওয়া শুরু করেন।
এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহকে চারদিকে ঘিরে ধরা হয়। তারা জানতে চান, কি উদ্দেশ্যে তিনি ওই আওয়ামীলীগ নেতার বাসায় এসেছেন। সেখানে কোনো ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল কি না। বাসার সামনে আসা তরুণরা উচ্চস্বরে স্লোগান দেন। পরে হাসনাত আবদুল্লাহ ধীরে ধীরে প্রশ্নের জবাব দিতে থাকেন। এরপরও উত্তেজনা না থেমে একপর্যায়ে সেখানে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, এক যুবক সরাসরি হাসনাত আবদুল্লাহর কাছে ওই বাসায় যাওয়ার কারণ জানতে চান। অনেকে সাবেক মেয়রের বাসায় যাওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি করেন। এ ঘটনার সময় কেউ একজন মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে যায়।
একজন হাসনাত আবদল্লাহকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনার আওয়ামী লীগের দোসরের বাসায় কাজ কি? আপনি একজন জুলাই যোদ্ধা। সংসদে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন। তাহলে আওয়ামী লীগের দোসরের বাসায় কেন?
এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহকে হাত নাড়িয়ে তাদের শান্ত করতে দেখা যায়। পরে একজন এসে বিক্ষুব্ধদের সবাইকে সরে যেতে বলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে নিরাপত্তাজনিত কারণে হাসনাত আবদুল্লাহ বাসা থেকে বের হয়ে দ্রুত চলে যান।
মনোয়ারুল হক/
