শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত করা সম্ভব : শিক্ষা মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৮ এপ্রিল) : শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বিভিন্ন পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব।

তিনি আজ সংসদে নোয়াখালী-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে কি না এবং কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে?

মন্ত্রী জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে করে শিক্ষা খাতের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।

তিনি সংসদকে জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিএসএইচই) প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালু, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা প্রদান ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসহ সমন্বিত প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা।

শিক্ষক সংকট নিরসনে এহছানুল হক মিলন বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ের শূন্য পদের তালিকা প্রস্তুত করে তা পাবলিক সার্ভিস কমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ সময় শিক্ষা মন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)’র মাধ্যমে পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন পদ্ধতির আধুনিকায়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— পাঠ্যক্রম হালনাগাদ, তৃতীয় ভাষা ও কারিগরি শিক্ষা চালু, প্রযুক্তিনির্ভর মূল্যায়ন প্ল্যাটফর্ম প্রবর্তন এবং আনন্দমুখর ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার।

শিক্ষা মন্ত্রী মিলন বলেন, শিক্ষার্থীদের সামাজিক, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিত করতে, ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম (ডিএমএস) চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এর মাধ্যমে শিক্ষকদের উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম ও একাডেমিক তদারকি জোরদার করা হচ্ছে।
পাশাপাশি শিক্ষালব্ধ ফলাফল ও মনিটরিং প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী অর্থবছরে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইমপ্যাক্ট ইভ্যালুয়েশন পরিচালনা করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রী জানান, শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, আর্থিক স্বচ্ছতা নীতি প্রণয়ন, ভুয়া সনদধারী শিক্ষক শনাক্তকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক র‌্যাংকিং ব্যবস্থা চালু।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত ‘নেক্সটজেন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, রিয়েল-টাইম মূল্যায়ন ও মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, মাধ্যমিক স্তরে কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা, সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণী চিন্তাধারা বিকাশ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গুণগত মানসম্পন্ন ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হবে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ