জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের সমর্থন কামনা

নিজস্ব প্রতিবেদক (ঢাকা), এবিসিনিউজবিডি, (৩ এপ্রিল) : বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপনের অংশ হিসেবে টরন্টোতে কনস্যুলার কোরের সম্মানে বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল।

আজ শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার শহরের অ্যাট্রিয়া ওয়ানের কনফারেন্স হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কনস্যুলার কোরের সদস্য, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সংগঠনের প্রতিনিধি, অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্ট ও সিটি কাউন্সিলের সদস্যসহ কানাডার রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্টারিওর মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সহযোগী মন্ত্রী বিজয় থানিগাসালাম প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্টারিও প্রাদেশিক সংসদের সদস্য আরিস বাবিকিয়ানও অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল শাহ আলম খোকন তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নির্যাতিত নারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানও স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবারের স্বাধীনতা দিবস বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। এ সময় তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার বিষয়টি গুরুত্বসহ তুলে ধরেন। আগামী জুনে এ পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে প্রার্থী করা হয়েছে।

কনসাল জেনারেল বলেন, ‘এই প্রার্থিতা বহুত্ববাদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।’ তিনি এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন কামনা করেন।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ শীর্ষ সেনা প্রেরণকারী দেশগুলোর অন্যতম।

পাশাপাশি ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. জসীম উদ্দিন দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে।

তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় কানাডার সমর্থনের প্রশংসা করে বলেন, এটি দুই দেশের অভিন্ন মূল্যবোধ- গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বহুত্ববাদের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতিফলন।

হাইকমিশনার আরও বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদার প্রতিচ্ছবি।

ড. খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বৈশ্বিক স্বার্থ রক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুত্ববাদ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথি বিজয় থানিগাসালাম কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির দৃঢ়তা ও পারস্পরিক সংহতির প্রশংসা করেন। তিনি তাদেরকে দুই দেশের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন হিসেবে বর্ণনা করেন।

শেষে অতিথিদের জন্য বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বৃহত্তর টরন্টো এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটির অংশগ্রহণে পৃথক কর্মসূচিও আয়োজন করেছিল কনস্যুলেট জেনারেল।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ