ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্ত দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপালেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, (১৩ জানুয়ারি) : ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে যুক্ত দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই পদক্ষেপ ইরানে তিন সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আরেও বাড়তি মাত্রা যোগ করবে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) তিনি এ ঘোষণা দেন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে।
এতে এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর। এই আদেশ চূড়ান্ত এবং তর্কাতীত।’
তবে ইরানের সঙ্গে ‘ব্যবসা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।
ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। এর পরেই রয়েছে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও ভারত।
চলমান আন্দোলনে তেহরান বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর নতুন করে শুল্ক আরোপের এই ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প।
সোমবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, বিমান হামলাসহ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প সিদ্ধান্তগুলোও ‘টেবিলে’ রয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের কারণে কোন দেশের আমদানি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সে সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য জানায়নি হোয়াইট হাউস।
ইরানি মুদ্রা রিয়ালের মূল্য হ্রাসের কারণে সৃষ্ট ক্ষোভ থেকে গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় দেশটিতে। এর ফলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বৈধতার সংকটে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকারকর্মী সংবাদ সংস্থা, এইচআরএএনএ জানায়, তারা ইরানে প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যুর বিষয়টি যাচাই করেছে।
একাধিক সূত্র বিবিসিকে জানায়, মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। এ ছাড়া হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
গত সপ্তাহে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের একই রকম বিবরণ পেয়েছে বিবিসি। এরপর থেকেই, দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যার ফলে ইরান থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং যাচাই করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। দেশটি পুরো ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে এর নিন্দা জানিয়েছে।
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি ট্রাম্প জানান, ইরানি কর্মকর্তারা তার সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছে। যদিও ‘আমাদের বৈঠকের আগে পদক্ষেপ নিতে হতে পারে’, বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গত এক বছরে ইরানের মুদ্রার মান রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমেছে এবং মুদ্রাস্ফীতি ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে, যার ফলে রান্নার তেল এবং মাংসের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বহুগুণ বেড়ে গেছে। সূত্র: বিবিসি
মনোয়ারুল হক/
