চট্টগ্রাম বন্দর সচল থাকার দাবি চেয়ারম্যানের

চট্টগ্রাম ব্যুরো, এবিসিনিউজবিডি, (৮ ফেব্রুয়ারি) : চট্টগ্রাম বন্দর সচল আছে বলে দাবি করেছেন বন্দরটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ১২টার দিকে শ্রমিক-কর্মচারীদের ধর্মঘটের মধ্যে বন্দর ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন তিনি এ দাবি করেন।

বন্দর চেয়ারম্যান দাবি করেন, শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজে যোগ দিয়েছেন। কেউ বাধা দিবে না। তবুও এর মধ্যে যদি কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনি ব্যবস্থা নেবে। কিছু বিপথগামী কর্মচারী বন্দরকে হাইজ্যাক করে, জনগণকে জিম্মি করে এই পথ বেছে নিয়েছে। আমরা রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী। রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের আনুগত্য থাকবে। বন্দর যে আইনে চলে, সেই আইনের প্রতি এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। কেউ যদি বিপথগামী হয়ে অন্য কারো আনুগত্য বেছে নেয়, সেটা কর্মকর্তা-কর্মচারী আচরণ বিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থি। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারার বিষয়ে তড়িঘড়ি করা হচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, ‘এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৯ সালে। এরই মধ্যে বে-টার্মিনাল ও লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এরমধ্যে এনসিটি বিদেশি অপারেটরদের কাছে ইজারার বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট হয়। যেদিন রিটের আদেশ হয়, সেদিন একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এনসিটি ইজারা দেওয়া হচ্ছে- এমন উসকানি দিয়ে বন্দরে মিছিল করেছে। কিন্তু এটি নিয়ে চুক্তি একটি লম্বা প্রক্রিয়া।’

চেয়ারম্যান বলেন, ‘যারা এসব করছে তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ও জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। রমজানের আগে এ ধরনের একটা কাজ করে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে তারা।’

বন্দরের এনসিটি পরিচালনার ভার ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা শেষ হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নেগোসিয়েশন এখনো শেষ হয়নি।’

তবে বেলা ১টার দিকে বন্দর ভবনের বিপরীতে ৪ নম্বর জেটি গেইটে এবং বেলা ১টা ২০ মিনিটে বন্দরের এনসিটি গেইটে গিয়ে কোনো যানবাহন দেখা যায়নি।

অন্যদিকে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বা বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, আমি এবং আমাদের আরেক সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। এই বিষয়ে কাউকে আতঙ্কিত হতে আমরা নিষেধ করেছি। আমরা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করে চট্টগ্রাম বন্দরের আন্দোলন পরিচালনা করছি। আমরা শ্রমিক-কর্মচারীদের পাশে আছি। আমরা তাদের বিভ্রান্ত হতে বারণ করছি। আন্দোলনকে আরও গতিশীল করতে হবে। বন্দরের সব বিভাগে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যাতে করে বন্দরের দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান ও তার পোষা বাহিনী কোনোভাবে আমাদের দাবিসমূহ আদায় না হওয়া পর্যন্ত বন্দরকে সচল করতে না পারে।’

মনোয়ারুল হক/  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ