মানুষের রক্তেই বাড়তি লোভ মশার, গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য

স্বাস্থ্য ডেস্ক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (২২ জানুয়ারি) : মানুষের রক্তের প্রতি মশার আকর্ষণ দিন দিন বাড়ছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বন ধ্বংস ও জীববৈচিত্র্য কমে যাওয়ার ফলেই মশারা ক্রমে মানুষের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

ব্রাজিলের আটলান্টিক অরণ্যে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, অতীতে বিভিন্ন প্রাণির রক্ত থেকে খাদ্য গ্রহণ করলেও বর্তমানে মশাদের বড় অংশ মানুষের রক্ত শোষণ করছে।

ব্রাজিলের ফেডেরাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং অলওয়াল্ডো ক্রুজ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা আটলান্টিক অরণ্য অঞ্চলে মশাদের ওপর এই গবেষণা চালান। এই অরণ্য ব্রাজ়িল ছাড়াও প্যারাগুয়ে ও আর্জেন্টিনা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত।

গবেষণায় মোট ১, ৭১৪টি মশা পরীক্ষা করা হয়, যেগুলো ছিল ৫২টি ভিন্ন প্রজাতির। এর মধ্যে ১৪৫টি ছিল স্ত্রী মশা। কারণ শুধুমাত্র স্ত্রী মশাই রক্ত শোষণ করে। ওই স্ত্রী মশাদের মধ্যে ২৪টির রক্ত বিশ্লেষণ করা হয়।

পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়- ২৪টি স্ত্রী মশার মধ্যে ১৮টির পেটে পাওয়া গেছে মানুষের রক্ত বাকি মশাগুলোর পেটে ছিল ইঁদুর, পাখি, অ্যাম্ফিবিয়ান ও কুকুরজাতীয় প্রাণীর রক্ত এই তথ্য থেকেই স্পষ্ট, বর্তমানে মশার খাদ্য তালিকায় মানুষের রক্তই প্রধান হয়ে উঠছে।

ব্রাজিলের ফেডেরাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সার্জিয়ো মাচাদোর মতে, মশার খাদ্য তালিকায় মানুষের রক্তই প্রধান হয়ে উঠার ফলে মশার থেকে মানুষের শরীরে রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনাও বেশি। মশারা কোনও ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত কোনও রোগীকে কামড়ানোর পরে অন্য কোনও রোগীকে কামড়ালে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মানুষের বসতি স্থাপন ও বন উজাড়ের কারণে আটলান্টিক অরণ্যের আয়তন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এক সময় যে অরণ্য বিস্তৃত ছিল বিশাল এলাকা জুড়ে, বর্তমানে তার মাত্র ৩০ শতাংশ টিকে রয়েছে। এর ফলে বহু প্রাণি বিলুপ্ত হয়েছে বা সংখ্যা কমে গেছে। আগে যেসব প্রাণীর শরীর থেকে মশারা রক্ত শোষণ করত, সেই সুযোগ এখন অনেক কম। তাই বাধ্য হয়েই মশারা মানুষের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

মনোয়ারুল হক/  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ