আরও চারটি জাহাজ জ্বালানি নিয়ে আসছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো, এবিসিনিউজবিডি, (৯ মার্চ) : চট্টগ্রাম বন্দরে সপ্তাহখানেকের মধ্যে আরও চারটি জাহাজ জ্বালানি নিয়ে আসছে। এরমধ্যে তিনটিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও একটিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) রয়েছে। এসব জাহাজে মোট ২ লাখ ৪ হাজার ৮২৪ টন গ্যাস রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানায় এলএনজি গ্যাস ব্যবহার করা হয়। গৃহস্থালি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ছোট শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হয় এলপিজি গ্যাস। আমদানি করা গ্যাস এসব চাহিদা মেটাতে ব্যবহৃত হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, ওমানের সোহার বন্দর থেকে আসা পানামা পতাকাবাহী জাহাজ ‘এলপিজি সেভান’ গতকাল ৮ মার্চ বিকালে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। জাহাজটিতে ২২ হাজার ১৭২ টন এলপিজি গ্যাস রয়েছে।

কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে আসা বাহামা পতাকাবাহী জাহাজ ‘লুসাইল’ ৯ মার্চ ৬২ হাজার ৯৮৭ টন এলএনজি গ্যাস নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে।

একই বন্দর থেকে আসা লাইবেরিয়োন পতাকাবাহী জাহাজ ‘আল গালায়েল’ আগামী ১১ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজটিতে ৫৭ হাজার ৬৬৫ টন এলএনজি গ্যাস রয়েছে।

তাছাড়া একই বন্দর ছেড়ে আসা লাইবেরিয়োন পতাকাবাহী জাহাজ ‘লেব্রেথাহ‘ আগামী ১৪ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে আসবে। জাহাজটিতে ৬২ হাজার টন এলএনজি গ্যাস রয়েছে।

সবমিলিয়ে এই চার জাহাজে ২ লাখ ৪ হাজার ৮২৪ টন গ্যাস আমদানি হচ্ছে।

এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ওমানের সোহার বন্দর থেকে পানামা পতাকাবাহী ‘জি ওয়াই এমএম’ জাহাজ ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে।

গত ৩ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টায় কাতার থেকে আসা ফ্রান্সের পতাকাবাহী ‘আল জোর’ জাহাজ ৬৩ হাজার ৩৮৩ টন এলএনজি ও গত ৫ মার্চ গ্রিসের পতাকাবাহী ‘আল জাসাসিয়া’ জাহাজ সকাল সাড়ে ১০টায় ৬৩ হাজার ৭৫ টন এলএনজি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যায়। এর আগেই এই জাহাজগুলো ঝুঁকিপূর্ণ জলপথটি অতিক্রম করতে পেরেছিল। জাহাজগুলো ধাপে ধাপে চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে। এসব জাহাজে এলএনজি ও এলপিজি গ্যাস রয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বন্ধ করে দেয় তেহরান। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ভয়াবহ।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, এলপিজি ও এলএনজি বেশি পরিবহন হয়। এই পথ (হরমুজ প্রণালী) দিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় তেল পাঠায় সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, জ্বালানি তেল, গ্যাসের সাপ্লাইটা মধ্যপ্রাচ্য থেকে হয়ে থাকে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার আগে যেসব জাহাজ পথটি অতিক্রম করতে পেরেছিল সেগুলো আসছে। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেছে। জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্ন হলে আমাদের বড় ধরণের সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ব্যাহত হবে। পোশাক খাতে ধাক্কা লাগবে। সরকারের উচিত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে আলোচনা করা। পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা।

বাংলাদেশ শিপিং অ্যাজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। হরমুজ প্রণালীর এক পাশে অবস্থান ইরানের। এটা বন্ধ করে দেওয়া মানেই জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটা। আমাদের তো জ্বালানি তেলের পুরোটাই আমদানি করতে হয়। হরমুজ প্রণালী বন্ধের আগে যেসব জাহাজ পথটি অতিক্রম করতে পেরেছিল সেগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে।

মনোয়ারুল হক/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
ব্রেকিং নিউজ