বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৬ নভেম্বর): দেশের প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রান্তিক ও সাধারণ রোগীরা যেন নিজ নিজ বিভাগীয় ও আঞ্চলিক পর্যায় থেকেই উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন এবং এর জন্য যেন কাউকে রাজধানীমুখী হতে না হয়, সেই লক্ষ্যে বর্তমান প্রশাসন বিভিন্ন বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে।
আজ রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিংয়ের ‘৩২তম জাতীয় সম্মেলন ও সেকেন্ড আউটরিচ প্রোগ্রাম বাংলাদেশ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো তুলে ধরেন।
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবারের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করেছেন। আমাদের এখন মূল দায়িত্ব হলো, এই বাজেটের সঠিক ও উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সামগ্রিক অগ্রগতি সাধন করা। সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও যদি নিখাদ আন্তরিকতা ও পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে উপলব্ধ সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করা যায়, তবে দেশের স্বাস্থ্যখাতে এক সুদূরপ্রসারী ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব।
স্বাস্থ্য খাতের গুণগত মান উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের আর্থিক বরাদ্দ ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিকিৎসাব্যবস্থায় সত্যিকারের ইতিবাচক রূপান্তর ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সবার ওপর বর্তায়। দেশের রোগীরা যেন নিজ দেশেই সব ধরনের জটিল ও আধুনিক রোগের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা লাভ করতে পারেন এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশে যাওয়ার দুর্গতি যেন কাউকে পোহাতে না হয়—সেজন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় তিনি তরুণ ও নবীন চিকিৎসকদের ভবিষ্যতের দক্ষ নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে সুচিন্তিত ক্যারিয়ার প্ল্যানিং বা পেশাগত কর্মপরিকল্পনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
এদিকে সম্মেলনে উপস্থিত বিশেষজ্ঞ বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে, বাংলাদেশে মৃত্যুর প্রধান ১০টি কারণের তালিকায় লিভার সিরোসিস বর্তমানে ৭ম অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত এবং ৪ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় ভুগছেন।
লিভারের এই রোগটি জটিল রূপ ধারণ করলে মাত্র এক বছরের মধ্যে শতকরা ৪০ থেকে ৬০ ভাগ রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেন এবং রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে স্ক্রিনিং পরীক্ষা ও ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেন। এছাড়া, অপ্রয়োজনীয় সিটি স্ক্যান ও সার্জারি সম্পূর্ণরূপে পরিহার করার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য ‘রেডিয়েশন ঝুঁকি ভাতা’ অবিলম্বে চালুর জোর দাবি জানান বক্তারা।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. সৈয়দ আওসাফ আলী’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিংয়ের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সম্মানিত উপস্থিতি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম (শাকিল)।
উল্লেখ্য, এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ভারত, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি এবং দেশি-বিদেশি খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও গবেষকগণ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
মনোয়ারুল হক/
