শিক্ষা সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও জোরদার হবে
নিজস্ব প্রতিবেদক, এবিসিনিউজবিডি, ঢাকা (৫ নভেম্বর): শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকার ডেমরায় অবস্থিত শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত স্মার্ট ক্লাসরুম উদ্বোধন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বের যে মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই সম্পর্ককে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করেছেন। আগামী দিনে শিক্ষা ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে যৌথ সহযোগিতা এবং অভিজ্ঞতা আদান-প্রদানের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় উন্নীত হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। ওই সফরে শিক্ষা খাতসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নের লক্ষ্যে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এরই ফলশ্রুতিতে বেইজিং এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হওয়ার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার শিক্ষা সহযোগিতার দিগন্ত আরও প্রসারিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং বলেন, বাংলাদেশ চীনের অত্যন্ত নিকটবর্তী এবং বন্ধুভাবাপন্ন একটি রাষ্ট্র। দেশটির সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় সুসম্পর্ক রয়েছে। আজকের এই স্মার্ট ক্লাসরুম এবং শিক্ষা উপকরণ উপহার আধুনিক ডিজিটাল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। এটি মূলত চীন দেশ, সেখানকার সাধারণ মানুষ এবং কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বন্ধুত্বের ভালোবাসার নিদর্শন।
এদিনের আয়োজনে মোট ২৮টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি সরঞ্জাম ও শিক্ষাউপকরণ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দুটি আধুনিক স্মার্ট ক্লাসরুম, ৫০টি ডেস্কটপ কম্পিউটার, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য ৪৮ সেট ডেস্ক ও চেয়ার এবং একটি উন্নত হুয়াওয়ে স্মার্টবোর্ড। এছাড়া অনুষ্ঠানে চার সেট এয়ার কন্ডিশনার, গরম পানির পাত্র (ওয়ার্ম ওয়াটার পট), পেন্সিল বক্স, নোটবুক এবং নানা ধরনের খেলাধুলার সামগ্রী প্রদান করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লিউ ইউজিন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী এবং শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ।
মনোয়ারুল হক/
